আ'লীগ আমাকে বহিষ্কার করেনি, আমিও আ'লীগ ছাড়েননি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বহিষ্কৃত মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর দাবি করেছেন, তিনি এখনো আওয়ামী লীগেই আছেন। আওয়ামী লীগ তাকে বহিষ্কার করেনি কিংবা তিনি আওয়ামী লীগ ছাড়েননি। এ কারণেই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত হলেও শপথ নিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আমি আগেও আওয়ামী লীগে ছিলাম, এখনো আওয়ামী লীগে আছি। আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করলেও আওয়ামী লীগ আমাকে বহিষ্কার করেনি বা আমি আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাইনি। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত হয়েও আমি শপথ নিয়েছি।’

এ সময় সুলতান মনসুর জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত অন্য সংসদ সদস্যরাও শপথ নেবেন।

এর আগে সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। 

এ সময় মৌলভীবাজার জেলা গণফোরামের সভাপতি মোতাহের আলম, জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মোহিত, কুলাউড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অজয় দাস, যুগ্ম-আহ্বায়ক হুসেন মুনসুর, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সরদার, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সুলতান মনসুর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সংস্কারবাদীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ২০০৯ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। পরে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও গত বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামে যোগ দেন।

বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে যারা মূল ভূমিকা পালন করেছেন তাদের একজন সুলতান মনসুর। ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন ডাকসুর সাবেক এই ভিপি।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপক ভরাডুবি হলেও সুলতান মনসুর মহাজোটের প্রার্থীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন। নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঐক্যফ্রন্ট তা বর্জন করে এবং নির্বাচিতরা শপথ নেবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গত ৭ মার্চ শপথ নেন সুলতান মনসুর। পরে জাতীয় সংসদে যোগ দিয়ে ভাষণও দেন। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুই তার নেতা বলে উল্লেখ করেন। শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফন্ট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় সুলতান মনসুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য