'বড় ভাইকে' গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি

ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যাকারীদের বিচার ও হত্যার নির্দেশদাতা কথিত 'বড় ভাইকে' গ্রেফতারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন নিহতের বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস।

শুক্রবার নিজের ফেসবুকে দেয়া ওই খোলা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

খোলা চিঠিতে মেঘনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় জনসাধারণের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় আপনি চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছেন। আপনিই আমাদের আশা-ভরসার একমাত্র অবলম্বন। এই ভরসাকে অবলম্বন করে যথাযথ ন্যায়বিচারের আশায় আমি আমার যন্ত্রণা ও অসহায়ত্বের কথা ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার কাছে তুলে ধরছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার বড় ছেলে সুদীপ্ত বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সহসম্পাদক ছিল। ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর কতিপয় সন্ত্রাসী আমার ছেলেকে ভোরবেলা অস্ত্রের মুখে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে বাসার অদূরে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এই অভিযোগে আমি সংবাদদাতা হিসেবে সদরঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। মামলাটি তদন্তকালে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কয়েকজন আসামিকে আটক করা হয়। এরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। এটি একটি আলোচিত ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ড হিসেবে নানান সংবাদমাধ্যমে ফলাওভাবে প্রচার করা হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ওই সময়ে চট্টগ্রাম এলে উল্লিখিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার করার ব্যাপারে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে আশ্বস্ত করেন।’

সুদীপ্তর বাবা তার ফেসবুকে দেয়া খোলা চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, পুরো হত্যাকাণ্ডের ভিডিওচিত্র এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত খুনের নির্দেশদাতা কথিত লালখান বাজারের সেই বড় ভাই, যার নাম বিভিন্ন পত্রিকা এবং সভা-সমাবেশে এসেছে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি।

তিনি কথিত ওই বড় ভাইকে গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সুদীপ্তর খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সুদীপ্ত খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে কয়েকজন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। তবে ঘটনার মূলহোতা ও নির্দেশদাতাদের নাম এখনও আড়ালেই থেকে গেছে বলে দাবি স্বজনদের।

পাঠকের মন্তব্য