সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৪ দফা দাবি

সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে গণফোরাম।পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৮ দফা দাবিরও প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে দলটি।

শনিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা আমছা আমীন। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

গণফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-গণপরিবহন আইন ন্যায্যতার ভিত্তিতে যুগোপযোগী করে তার সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা। গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করাসহ দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া।

অদক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা। চালক/শ্রমিকদের মজুরি/পারিশ্রমিক ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্টকরণ ও যাত্রাপথে বিশ্রামের ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় দোষী চালক ও মালিকের সাজা নিশ্চিত করা। গণপরিবহন মালিকানার পরিবর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিতে পরিচালনা করাসহ মেওয়াদোত্তীর্ণ সব গণপরিবহন রাস্তা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। গণপরিবহনের জন্য আলাদা লেন করে সেবা বাড়ানো এবং ভুয়া ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালু রাখতে হবে, হাসপাতালের সামনের সড়কে নিরাপত্তার ব্যবস্থ রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

সড়ক-মহাসড়কের পাশে অবস্থতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ফুটওভার ব্রিজ ও স্পিড ব্রেকার তৈরি করতে হবে, গণপরিবহনের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রেগুলেটরি বডি নিয়ন্ত্রিত সরকারি ফান্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরিবহন কৌশল এবং সড়ক-সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে জনস্বার্থকে প্রাধ্যান দিতে হবে।

ঘোষিত এসব দাবি আদায়ে গণফোরাম রাজপথে কোনো কর্মসূচি দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করার দাবিতে ১ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে তার দল।

ডিএমপি কমিশনার

এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আজ জানিয়েছেন,  পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগামীকাল রোববার (২৪ মার্চ) থেকে রাজধানীর প্রতিটি পরিবহন ইন্টারসেকশন রুটে পুলিশের বিশেষ টিম নামানো হবে ।  

তিনি বলেন, বিশেষ এই টিম আগামী সাত দিন সড়কে চলাচলকারী পরিবহন কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা রোধ, যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা ও কৃত্রিম যানজট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সোচ্চার থাকবে। শনিবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর ডেমরার মাতুয়াইল এলাকায় অবস্থিত শামছুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী শিক্ষার্থী-অভিবাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

কমিশনার আছাদুজ্জামান আরা বলেছেন, আগামী সাত দিন এই ঢাকার শহরে যতগুলো ইন্টারেকশন আছে, সবগুলোতে স্পেশাল পুলিশ দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে। যদি কোনো পরিবহন কোম্পানির কোনো গাড়ি প্রতিযোগিতা করে, রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করে, কৃত্রিম যানজট তৈরি করে, স্টপ লাইন বরাবর গাড়ি দাঁড় করায়, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালায়, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এ বিশেষ টিম। সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, ডিটিসিএর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এই কাজগুলো করব।

আগামী দুয়েকমাসের মধ্যে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় জানিয়ে এ কাজে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, আমরা শুধু আইন প্রয়োগ করি। কিন্তু রাস্তা তৈরি করে সিটি করপোরেশন, গাড়ির ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন দেয় বিআরটিএ। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি। তাই সবার সহযোগিতা কাম্য।

পাঠকের মন্তব্য