ফিরে দেখা - স্মরণীয় দিন ৭১ এর ২৩ মার্চ 

ফেসবুক স্টাটাস, শরীফ নূরুল আম্বিয়া : এটা ছিল আমাদের জীবনের এক স্মরণীয় দিন, রাজনীতির বিবেচনায় ঐতিহাসিক। শ্রমিক ছাত্র জনতা এই দিনে পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিল।

২৩ মার্চ, পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসকে প্রতিরোধ দিবস হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছিলো।

কর্মসূচিতে ছিল সারা দেশে বাংলাদেশে পতাকা ওড়ানো এবং সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ। এই কর্ম সুচি সফল করার জন্য ২২ মার্চ তারিখের পত্রিকাতে পতাকার নমুনা ছবি, মাপ সহ ছাপিয়ে দেয়া হয়েছিলো। ছাত্র শ্রমিক জনগন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বাংলাদেশের পতাকা তৈরি করে উড়িয়েছিল ২৩ তারিখ সকালে। পরিকল্পিতভাবে জয় বাংলা বাহিনী ও ছাত্র লীগ কর্মীরা বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসে এই পতাকা তুলেছিল, ২২ তারিখ গভীর রাতে, নয়তো ২৩ তারিখ সকালে। জয় বাংলা বাহিনী ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাস ভবনে এই পতাকা তুলে দেয়। ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া পাকিস্তানের পতাকা কোথাও ওড়েনি এই বাংলায়।

স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ঐদিন সকালে জয়বাংলা বাহিনীর কুচকাওয়াজ করেছিল পল্টন ময়দানে, সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা অভিবাদন নিয়েছিল জয় বাংলা বাহিনীর। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলে গান-স্যালুট দেয়া হয়েছিলো। ছাত্র ছাত্রী, প্রাক্তন সৈনিকদের নিয়ে প্লাটুন সাজানো হয়েছিলো। কুচকাওয়াজ শেষে বঙ্গবন্ধ র বাসভবনে মার্চ করেছিল জয় বাংলা বাহিনী। বিকেলে মৌলানা সাহেবের জনসভা ছিল পল্টনে, অসুস্থতার জন্য উনি উপস্থিতি না হলেও তার পক্ষে পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। বাইতুল মোকাররমে ছাত্র শ্রমিকদের সভা হয় স্বাধীনতার পক্ষে। সারা দেশেই স্বাধীনতার পক্ষে সভা সমাবেশ হতে থাকে। 

জেনারেল ইয়াহিয়া আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার নিষ্পত্তির যে খেলা শুরু করেছিল ১৫ তারিখ ঢাকায় আসার পর, ভুট্টো এসেছিল ২১ তারিখে, তার বিরুদ্ধে সংগ্রামী জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধুর বাসভবন অভিমুখে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিল ক্রমেই বেড়ে উঠছিল। ২২-২৩ মার্চ তারিখে উত্তাল জনতার ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকলো, স্বাধীনতা ঘোষণার দাবীতে এবং সশস্ত্র সংগ্রামের আকাঙ্খায়।

২৫শে মার্চ কালো রাতে, ইয়াহিয়া তার খেলা শেষ করল হিংস্র গনহত্যার মাধ্যমে। তবে তার আগেই বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতা পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে, স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে, জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে, ৩ মার্চ ঘোষিত ইস্তাহার এর ভিত্তিতে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি নিয়েছিল, পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিল ২৩ মার্চ। এসবের পেছনে ছিল নিউক্লিয়াস , যা পরে পরিণত হয়েছিলো সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ এর নেতৃত্বাধীন BLF এ। শ্রদ্ধার সংগে স্মরণ করি বিএল এফ ও নিউক্লিয়াস এর সকল নেতৃবৃন্দকে- তাঁদের অবদানের জন্য।।

নিউক্লিয়াস প্রসঙ্গে 

নিউক্লিয়াস গঠন করেছিলেন, সিরাজুল আলম খান, আ: রাজ্জাক ও কাজী আরেফ। নিউক্লিয়াস এর কাজ অগ্রসর করার প্রক্রিয়ায় বংবন্ধুর সংগে পরামর্শ ক্রমে শেখ ফজলুল হক মনি এবং তোফায়েল আহমেদ যুক্ত হন। কাজি আরেফ থেকে যান অন্তরালে, তবে ২৫ মার্চ পর্যন্ত নিউক্লিউসের সদস্য হিসেবে তার ভূমিকা ছিল প্রত্যক্ষ। মার্চ মাসের বিপ্লবী কর্মকান্ডে নিউক্লিয়াস ও স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রিয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত ছিল গুরুত্বপুর্ন, ব্যক্তিগত ভাবে আমরা সবাই তাদের নির্দেশ পালন করেছি মাত্র।

পাঠকের মন্তব্য