সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা দিয়েছিলাম...

 এসপি মেহেদুল করিম, কুড়িগ্রাম

এসপি মেহেদুল করিম, কুড়িগ্রাম

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)- সেবা’ পদপ্রাপ্ত কুড়িগ্রামের এসপি মেহেদুল করিম একজন নানা-কাজে পারদর্শী ব্যক্তিত্ব। তিনি যেমন কুড়িগ্রামের গুরুত্বপুর্ণ মামলার রহস্য উৎঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃংঙ্খলাপূর্ণ আচরণে অবদান রেখে চলেছেন, তেমনি কুড়িগ্রাম জেলাবাসির জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সর্বক্ষেত্রেই তিনি অন্যান্য  মেধা দিয়েও সকলের মন জয় করে চলেছেন। এবার জয় করবেন, কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের ভালোবাসা।  

বিস্তারিত হুবহু ফেসবুক স্টেটাস 

কিছু কাজ আছে যেগুলো করতে খুব কষ্ট হলেও, কাজটি শেষ করার পর সব কষ্ট দূর হয়ে যায়, মনের ভিতর একটা তৃপ্তি কাজ করে। গতকাল থেকে এই কাজটি করা শুরু করেছিলাম, এটি একটি বই এর কভার পেজ ডিজাইন। কুড়িগ্রাম এর জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রাম জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ধরে রাখতে তিনি এক অভিনব উপায়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কুড়িগ্রাম এর সকল মুক্তিযোদ্ধার হাতের ছাপ নিয়ে তাদের তথ্যসহ প্রত্যেক থানার জন্য আলাদা আলাদা বই প্রকাশ করবেন। 

এতো বড় একটি কাজ, অনুকরণীয় একটি কাজ এর জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়'কে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই প্রোগ্রাম এর উদ্বোধন এর দিনে আমি সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধাদের বলেছিলাম- এই বই এর প্রচ্ছদটি আমি নিজ হাতে ডিজাইন করবো।

সেই থেকে আমি প্রতিদিন-ই ভাবছি, কি করা যায়.. বিভিন্নভাবে ভাবার পর গতকাল'কে ভাবনা চূড়ান্ত হলে আর্ট শুরু করি, এই প্রচ্ছদটি সদর থানার জন্য....
 

তাই সদর থানার থ্রি ডি মানচিত্র দিয়েছি, সেখানে একটি মুক্তিযোদ্ধার হাত মাটির নিচে থেকে উঠে আসছে... সবাই একদিন মাটির নিচে চলে যাবেন... তারপরেও এই হাতের ছাপ, তাদের স্মৃতি মাটি ভেদ করে আমাদের ডাকবে ....পাশে বঙ্গবন্ধু যিনি ছাড়া আমাদের বীরগাথার কোনো অর্থ নাই... দু'পাশে দুটো .৩০৩ রাইফেল.....যা দিয়ে আমরা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছিলাম, বীরগাথা নামটি রাইফেল এর বুলেট দিয়ে লেখা হয়েছ.... একটু যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব আনার জন্য....সদর থানার যে পাশ দিয়ে নদী গেছে ...এক নদী রক্ত দিয়ে কিন্তু আমরা আমাদের এই বাংলাদেশ পেয়েছিলাম ... তাই, ম্যাপ এর ভিতরে রক্তের নদী দিয়ে সেটাকে নিচে সাগরে পরিণত হয়েছিল তা বোঝাতে ছেয়েছি...ছবিটির ব্যাকগ্রাউন্ড এ ...সবুজ, লাল-কালি দিয়ে ছোট ছোট করে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম লিখেছি... একটি পতাকার আবহ তৈরি করার জন্য....

আমি ভালো আঁকতে পারিনা...পারলে হয় তো আরো সুন্দর কিছু সৃষ্টি করতে পারতাম....আবারো জেলা প্রশাসক মহোদয় কে ধন্যবাদ...এত মহান একটি কাজের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ...আর আমাকে এই কাজের ছোট্ট একটু অবদান রাখার সুযোগ দেওয়ার জন্য। 

ফেসবুক স্টেটাস লিঙ্ক : এসপি মেহেদুল করিম, কুড়িগ্রাম 

পাঠকের মন্তব্য