‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ’ নিষিদ্ধ করল ফেসবুক

 ফেসবুক

ফেসবুক

‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ’ উসকে দেয়, এরকম সব পোস্ট আগামী সপ্তাহ থেকে আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। 

পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের পেইজ চিহ্নিত করা এবং তাদের কনটেন্ট আটকানোর ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতেও ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ কাজ করার কথা জানিয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে কোনো ব্যবহারকারী ফেইসবুকের সার্চ অপশনে শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদীতার সঙ্গে সম্পর্কিত কনটেন্টের খোঁজ করলে তাকে ‘লাইফ অফটার হেট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পেইজে নিয়ে যাওয়া হবে। যারা ডান-চরমপন্থার বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কাজ করছে।  

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার দৃশ্য হামলাকারী ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের এই প্রভাবশালী মাধ্যমটি চাপে আছে।

শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী অনেক বিষয়বস্তুকে ফেইসবুক আগে ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে বিবেচনা করত না। ব্যবহারকারীরা শ্বেতাঙ্গদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানালে, সেটাও ফেইসবুক আটকাতো না।   

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির অবস্থান ছিল অনেকটাই ইতিবাচক। তাদের ভাষ্য, শ্বেতঙ্গদেরও মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে।। যেমনটা তারা মনে করত ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা বাস্ক বিচ্ছিন্নতাবাদের মতবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে। ফেইসবুকের ভাষায়, এ বিষয়গুলো মানুষের আত্মপরিচয়ের ‘গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ’।

কিন্তু বুধবার এক ব্লগ পোস্টে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও তাত্ত্বিকদের সঙ্গে তিন মাস ধরে পরামর্শ করে তারা বুঝেছে, শ্বেত জাতীয়তাবাদকে শ্বেত শ্রেষ্ঠত্ববাদ ও সংগঠিত বর্ণবাদ থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা করা সম্ভব নয়।

চলতি মাসের প্রথমদিকে নিউ জিল্যান্ডে ওই সন্ত্রাসী হামলার পর বেশ কয়েকজন বিশ্ব নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে তাদের প্লাটফর্মে পোস্ট করা চরমপন্থি উপাদানের বিষয়ে আরো দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন বলেছিলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রকাশক, শুধুমাত্র ডাক পিয়ন না।”

পাঠকের মন্তব্য