ছেলেটির অপরাধ সে ১২ ক্লাসের পরীক্ষা দিচ্ছিল

ছেলেটির অপরাধ সে ১২ ক্লাসের পরীক্ষা দিচ্ছিল

ছেলেটির অপরাধ সে ১২ ক্লাসের পরীক্ষা দিচ্ছিল

১৭ বছর বয়সের গুজরাটের এই দলিত ছেলেটির অপরাধ সে ১২ ক্লাসের পরীক্ষা দিচ্ছিল। তাই গাছে বেঁধে তাকে বেধরক মার মারা হয়। ঘন্টাখানেক ধরে ছেলেটির চিৎকার শুনেও পাশ দিয়ে যাওয়া সব লোকজনই চুপ ছিল কিংবা মাথা নিচু করে চলে গেছিল। কেন? কেননা উচ্চবর্ণের জানোয়ারগুলো ছেলেটিকে মারছিল৷

ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজে যেখানে তার হওয়ার কথা ছিল চামার, মেথর কিংবা ডোম। কি আস্পর্ধা তার৷ হাতে বই তো তুলেই নিল, একেবারে স্কুলজীবন পাশ করার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল। উচ্চবর্ণের মানুষেরা মানবে কেন? কেন তারা চাইবে চোখের সামনে অচ্ছ্যুতরা এগিয়ে যাক,তাদের টপকে যাক। 
গুজরাট মডেলের কনসেপ্ট তো এটাই৷

কয়েকশত বছর ধরে এই গুজরাট মডেল সারাদেশ জুড়েই চলে আসছে৷ এর চেয়ে আরও ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে৷ পড়াশোনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে দলিতদের কানে ঢোকানো হয়েছে লোহার রড, বলা হয়েছে পড়াশোনা করার অধিকার কেবল উচ্চবর্ণের।

আজ এই পড়াশোনা করার অধিকারটুকু ছিনিয়ে আনার পড়েও তাদের আটকানো হচ্ছে৷ একটা সম্পূর্ণ সম্প্রদায়কে যে কোনো প্রকারে পায়ের তলায় রেখে দেওয়ার প্রচেষ্টা৷

আবার কথায় কথায় শোনা যায় সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ৷ দলিতদেরও মারব কিংবা দলিতরা মার খেলে কোনো ট্যাফু করব না, আর কথায় কথায় সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার কথা তুলে বলব,দলিতরা কিছু না পড়েই চান্স পায়, দলিতদের এখনো অনেক বড়োলোক৷

রাখুন না ভাই৷ এই যে একটা সম্প্রদায়কে এতকাল ধরে কিছু না দিয়ে দিয়ে শুকিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে কথা বলুন। না পেতে পেতে, লড়াই করে ছিনিয়ে আনতে গেলেও এরকম মার জোটে৷ গায়ে কালশিটে ফেলে দেওয়া হয়৷ খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। উলঙ্গ করে রাস্তায় ঘোরানো হয়৷ যাতে ভয়ে আর লড়াই শব্দটা উচ্চারণই না করে তারা।

সংরক্ষণ হল দলিত, আদিবাসী সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার৷ এটা কোনো পাইয়ে দেওয়া প্রকল্প নয়। এটা তাদের ন্যায্য। সমাজ থেকে কাস্টের নির্মূলন হোক। সমস্ত রকমের সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার দাবি জানানো হবে৷

ততদিন দেশজুড়ে দলিত সহ আদিবাসী, মুসলমানদের ওপর সমস্ত রকমের নিপীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হোক৷ জোট বাঁধা হোক এই মনুবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে। যারা মনুবাদকে ভারতে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জাতি,ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে লড়াই হোক জোরদার৷ বিরুদ্ধতার আওয়াজ তুললেই রাষ্ট্র পালাতে বাধ্য।

ফেসবুক স্টাটাস লিঙ্ক : কৃপা বসু 

লেখক ও ছবি : Akash Sarkar

পাঠকের মন্তব্য