শিশুর প্রথম খাবার যেমন হওয়া উচিৎ

শিশুর খাবার

শিশুর খাবার

শিশুর পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই হচ্ছে শিশুর জন্য আদর্শ খাবার। কিন্তু তারপর থেকেই শিশুকে শক্ত খাবার খাওয়ানো শুরু করতে হয় এবং এটি শিশুর জন্য একটি বড় মাইলফলক অর্জনের মতোই ঘটনা। সব পিতামাতাই সন্তানের জন্য সবচেয়ে ভালো জিনিসটাই চান। শিশুর সার্বিক বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য কঠিন খাবার শুরু করার ক্ষেত্রে পুষ্টির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। শিশুর প্রথম সলিড খাবার হিসেবে যে খাদ্যগুলোকে বেঁছে নিতে পারেন সে সম্পর্কেই জানবো আজ।

যেভাবে শিশুকে প্রস্তুত করবেন : এমন একটা সময় বেঁছে নিন যখন শিশু হাসি খুশি থাকে এবং সে খুব ক্লান্ত বা খুব বেশি ক্ষুধার্ত থাকবেনা। শিশুকে খুব বেশি জোড়াজুড়ি করবেন না তাহলে আপনিও বিষয়টা উপভোগ করতে পারবেন। 
 
যেকোন একটি খাবার পছন্দ করুন প্রথমে। এই খাবারটি কয়েকদিন খাওয়ানোর পরে অন্য নতুন খাবার দিন। এতে কোন খাবারে শিশুর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হয় কিনা বুঝতে পারবেন। নতুন খাবার খাওয়ানোর পর যদি ডায়রিয়া, র্যাশ বা বমি হয় তাহলে সেই খাবারটি খাওয়ানো বাদ দিন এবং শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

সাধারণত ৪-৬ মাসের মধ্যে শিশু বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারের প্রতিও উৎসাহিত হয়। এই সময়ে আপনি যা খাচ্ছেন তা দেখে সেও তা খেতে চাইবে। শিশুকে প্রথম খাবার হিসেবে ভাত দেয়া হয়। তবে এর সাথে মাংস ও সবজি মিশিয়ে দিতে পারেন। আস্তে আস্তে সব ধরণের খাবার যেমন-মাছ, ডিম ও ফল খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। এর পাশাপাশি অন্তত ১ বছর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান। শিশুর জন্য উপকারী কিছু খাবার হচ্ছে –

১. আপেল : শিশুর ৬-৮ মাস বয়সের মধ্যে খাওয়ানোর জন্য সবচেয়ে উপযোগী খাবার হচ্ছে আপেল। প্রতিদিন একটি আপেল আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আপেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হচ্ছে এর ফাইবার। যা নিয়মিত অন্ত্র পরিষ্কারে সহায়তা করে। আপেলে অন্য যে পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে তাহল-

ভিটামিন এ এবং ই, ফোলেট, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং সেলেনিয়াম। বিশেষজ্ঞদের মতে শিশুর ৮ মাস বয়স পর্যন্ত আস্ত আপেলের পরিবর্তে আপেলের সস খাওয়ানো উচিৎ। আপেলের খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা করে নিন। এক কাপ পানিতে আপেলের টুকরাগুলো দিয়ে ১৫-২০ মিনিট তাপ দিন। ঠান্ডা হওয়ার পর টুকরোগুলো একটি চামচ দিয়ে মসৃণভাবে পেস্ট করে নিন। তারপর শিশুকে খাওয়ান।

২. কলা : আপেলের মতোই শিশুর পাঁচ মাস বয়সের পর থেকে কলা খাওয়ানো শুরু করতে পারেন। কলা পটাসিয়ামে সমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুর শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। পটাসিয়ামে পেশীর কাজে সাহায্য করে এবং হৃদস্পন্দন ও হৃদপেশীর রিলাক্সেশনের জন্য কাজ করে। এছাড়াও কলাতে শর্করা থাকে যা এনার্জি প্রদান করে এবং ফাইবার থাকে যা হজমে সাহায্য করে। একটি পাকা কলার অর্ধেকটা নিয়ে চামচ দিয়ে ভালো করে থেঁতলে নিন, তারপর শিশুকে খাওয়ান।

৩. মিষ্টি আলু : আপনার শিশুর জন্য সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হচ্ছে মিষ্টি আলু। অধিকাংশ শিশুই মিষ্টি আলু পছন্দ করে। বিটা ক্যারোটিনের সমৃদ্ধ উৎস মিষ্টি আলু, যা শরীরে ভিটামিন এ তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন এ ভালো দৃষ্টিশক্তির জন্য, সুস্থ ত্বকের জন্য এবং শিশুর সার্বিক বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টি আলু সিদ্ধ করে শিশুকে খাওয়ান।

৪. গাজর : শিশুর জন্য আরেকটি উপকারী খাবার হচ্ছে গাজর। গাজর বিটা ক্যারোটিনে সমৃদ্ধ। এছাড়াও ভিটামিন সি, কে, বি৮ এবং ক্যালসিয়াম, ফোলেট, পটাসিয়াম, আয়রন, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ থাকে গাজরে যা শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। গাজর সিদ্ধ করে খিচুড়ির সাথে দিয়ে খাওয়াতে পারেন। যে শিশুদের দাঁত উঠেছে তাদেরকে পাতলা করে কেটে দিতে পারেন, এটি শিশু চিবিয়ে খেতে মজা পাবে। তবে সব সময় গাজরের খোসা ছাড়িয়ে দেবেন। কারণ এর খোসা শিশুর হজম হয়না।

পাঠকের মন্তব্য