নানা দেশের কূটনীতিকদের নিকট বিএনপি'র যত নালিশ

কূটনীতিকদের নিকট বিএনপি

কূটনীতিকদের নিকট বিএনপি

কারাবন্দি অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে বিএনপি। গতকাল বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব এ ব্রিফ করেন। 

বিকাল ৪টা থেকে ৩৫ মিনিটব্যাপী এ ব্রিফে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইইউ, তুরস্ক, নরওয়ে, পাকিস্তান, মরক্কো, মিয়ানমারসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত নানা দেশ ও সংস্থার ২১ জন কূটনীতিক অংশ নেন। ব্রিফ শেষে বিএনপি ও কূটনীতিকদের কোনপক্ষই গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতিই ব্রিফের বিষয়বস্তু ছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। 

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিষয় একটিই, আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ট্রিটমেন্ট। তিনি এখন হাসপাতালে আছেন। তার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যে রিপোর্ট আমরা পেয়েছি- তা আমরা পেয়েছি হাইকোর্টের নির্দেশে, তার আগে নয়।

সরকার সুচিকিৎসার উদ্যোগ নেয়নি। তার বাস্তব চিত্রটাই তাদের (কূটনীতিকদের) কাছে জানানো হয়েছে। কূটনীতিকরা কোন প্রশ্ন করেছেন কিনা জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তারা তো কিছু বলবে না, তারা তো শুনবে। তারা কখনো কিছু বলে না, তারা শোনে। তাদের কিছু করার থাকলে তাদের ওয়েতে তারা তা করে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে গোপন করার কিছু নেই। তার বাস্তব শারীরিক পরিস্থিতিটা যা তাই বলা হয়েছে। গয়েশ্বর রায় বলেন, নিয়মিত আমাদের দেশে অনেকেরই কনভিকশন (সাজা) হয়। কনভিকশনের পরে তারা বেইলও (জামিন) পান। বেইল পাওয়ার পর চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা থাকে। এরকম অনেক উদাহারণ আছে। 

আমাদের আশেপাশে আছে, ওই দলে আছে, সেই দলে আছে। যাদের ২০ বছর, ২৫ বছর জেল হয়েছিল- তারা জামিনে বের হয়েছে। জামিন নিয়ে তারা আছে, দেশে বিদেশে ঘুরছে। কোন সমস্যা নেই। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদারও তো ১৫ বছর জেল হয়েছে। 

তিনিও তো জেলখানা থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। সুতরাং আদালতের এই সুযোগটা, এটা পাওয়ার অধিকার প্রত্যেকটা নাগরিকের আছে। গয়েশ্বর রায় বলেন, আমি ধরলাম বেগম খালেদা জিয়া প্রাইম মিনিস্টার ছিলেন না। সিম্পলি সি ইজ এ সিটিজেন অব দ্য কান্ট্রি। সি শুড হ্যাভ রাইট টু গেট দিস অপরচুনিটি। আমাদের বক্তব্যটা হলো যে, উনার চিকিৎসাটা আমরা যেখানে খুশি করতে পারবো যদি তিনি জামিনে মুক্তি পান। আর উনি যদি জামিনে মুক্তি পান তাহলেও উনার কনভিকশন (সাজা) তো বাদ হয়ে যাচ্ছে না। গয়েশ্বর রায় বলেন, আমরা নিঃশর্তে মুক্তি চাচ্ছি না।

কারণ আমরা তো জামিনের আবেদন করেছি। জামিনে যদি তিনি মুক্তি পান তো উনি উনার চিকিৎসাটা পছন্দ অনুযায়ী করতে পারবেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কূটনীতিকদের কিছু শিষ্টাচার আছে। সেখানে তারা কখনো কিছু স্পষ্ট করে বলে না। 

আমাদের দেশের কূটনীতিকরা যখন অন্য দেশে যায় তারাও সেখানে কিছু বলে না, শোনে। ব্রিফে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জেবা খান, মীর হেলাল ও ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন প্রমুখ অংশ নেন। 

পাঠকের মন্তব্য