ভারতের নির্বাচন : কি ভাবছেন দেশের রাজনীতিবিদরা 

 কি ভাবছেন দেশের রাজনীতিবিদরা 

কি ভাবছেন দেশের রাজনীতিবিদরা 

কাল থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। প্রতিবারই যখন ভারতের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন মুখিয়ে থাকে ভারতের দিকে। ভারতের নির্বাচনে কোন দল ক্ষমতায় এলো তার ওপর রাজনৈতিক অনেককিছুই নির্ভর করে বলে কিছুদিন আগেও মনে করতেন এদেশের রাজনীতিবিদরা। 

২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সময় বিজেপিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিল বিএনপি। বিজেপি যখন নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিল তখন বিএনপি নেতারা মিষ্টি বিতরন করেছিল। তারা মনে করেছিল, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের যে মধুর সম্পর্ক তার সমাপ্তি ঘটবে। বিজেপি আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দিবে না। দ্রুতই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়ে জাতীয় নির্বাচন হবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, গত পাঁচ বছরে বিজেপি সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের যে সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটেছে, ভারত কিংবা কংগ্রেসের সঙ্গেও কোন আমলে এতটা হয়নি। একমাত্র ৭২ থেকে ৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুর শাসনামল ছাড়া দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এত উঞ্চ অবস্থা বিরাজ করেনি। 

শুধু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা না, যেকোন দেশের কূটনৈতিকরা বলছেন যে, ভারত- বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে অত্যন্ত উঞ্চ, আন্তরিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। এই ব্যাপারটি দু-দেশের সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানরাও স্বীকার করেন। নরেন্দ্র মোদী কিছুদিন আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সের অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক আজ বিশ্বে বন্ধুপ্রতীম দেশের রোল মডেল। 

তিনি বলেছেন যে, এই সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উপনীত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ যে কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়, সকলের সঙ্গে বন্ধুতা সেই আদর্শ মেনে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে অত্যান্ত সুসম্পর্ক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরী করেছেন।

দুই দেশের কেউই চায় না যে, এই সম্পর্কের অবনতি ঘটুক। বরং এই সম্পর্ক যেন আরো এগিয়ে যায় সেটাই তারা চাইছেন। যদিও কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। তারপরও বিজেপির সঙ্গে গত পাঁচ বছরে নরেন্দ্র মোদীর কারণেই বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছেন। এই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনেকটাই নির্লিপ্ত এবং নিশ্চন্ত। কারণ আওয়ামী লীগ জানে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেনো ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক একই পথে হাঁটবে। 

গতবছর ভারতের নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও এবার সেই উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ভারতে যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেনো তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবে। তিনি বলেন যে, কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক পুরনো ও দীর্ঘ ঐতিহাসিক। আবার এখন বিজেপির সঙ্গেও তাঁদের বাণিজ্যিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস ও বিজেপির বাইরে তৃতীয় কোনো শক্তি ভারতের নির্বাচনে জয়ী হবে এমন কোনো সম্ভাবণা নেই। কাজেই ভারতের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির লাভ ক্ষতির হিসেব না করাই সমীচিন হবে। 

বিএনপি মনে করছে যে, যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তাঁদের নতুন নতুন সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরি হবে। আর যদি কংগ্রেস আসে তাহলে তো কথাই নেই। বিএনপি এবার এই নির্বাচনের ব্যাপারে নিরাসক্ত মনোভাব দেখাচ্ছে এবং এই নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাপারেও উদাসীন। বিএনপির একজন নেতা মনে করছেন যে, বিএনপির ভারত বিরোধী মনোভাব ত্যাগ করে রাজনীতিতে তোষামোদের নীতি গ্রহণ করেছে এটা বিএনপির সমর্থক ভোটাররা পছন্দ করছেন না। 

বিএনপির ভেতর থেকে চাপ আছে তারা যেন অবিলম্বে ভারতের তোষণ নীতি পরিবর্তন করে ভারত বিরোধী অবস্থান নেয়। কিন্তু বিএনপির নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সেরকম কোনো সম্ভাবণা নেই। কারণ বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানেন ভারতকে অসন্তুষ্ট করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর যাই হোক ক্ষমতায় আসা যাবে না। সেকারণেই বিএনপি এবার ভারতের নির্বাচন নিয়ে সমঝে চলার নীতি অনুসরণ করছে। 

অন্যদিকে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় পার্টি, বামফ্রন্ট তাঁরাও এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে যদিও বামফ্রন্টের দিক থেকে চিন্তাভাবনা হলো বিজেপির মাধ্যমে মৌলবাদী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে। তারপরও তারা এটা প্রকাশ্যে বলতে নারাজ। অন্যবার ভারতের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের যেমন জল্পনা কল্পনা থাকতো এবার কোনোটাই নেই। বরং রাজনৈতিক দলগুলো অপেক্ষা করছে ভারতের নতুন সরকার কে হবে তাঁকে বরণ করে নিতে এবং সেটা জানা যাবে আগামী ২৯শে মে।

পাঠকের মন্তব্য