ইন্টারনেটে আপত্তিকর ছবি ছাড়ার হুমকিতে চম্পার আত্মহত্যা

চম্পার আত্মহত্যা

চম্পার আত্মহত্যা

শহরের চৌধুরী বাজার কামারপট্টি এলাকায় কলেজ ছাত্রী চম্পা বণিক (২২) এর মৃত্যুর ঘটনায় লম্পট ও তার সহযোগি বড় ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করলে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে মৃত্যুর আসল কারণ বেড়িয়ে আসে। চম্পা বণিক আত্মহত্যা করেনি তবে তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে তারা। 

এ ঘটনায় চম্পার বড় ভাই সুভ বণিক বাদী হয়ে গত বুধবার হবিগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে ওই দিন বিকালে সদর থানার এসআই অভিজিত ভৌমিক সহ একদল পুলিশ শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্ধুর খান গ্রাম থেকে জিতু ঘোষের পুত্র এই মামলার প্রধান আসামী লম্পট দিপু ঘোষ, বাধন (২৫) ও তার ভাই যিশু ঘোষকে আটক করে। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি চম্পার বড় ভাই শুভ বণিকের বিয়েতে দিপু ঘোষের সাথে চম্পর পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিন্তু দিপু নিজেকে ব্যাংকার পরিচয় দিয়ে চম্পাকে তার প্রেমের ফাদে ফেলে তার সর্বস্ব লুটে নেয়। চম্পা জানতে পারে সে আসলে ব্যাংকার নয় একজন ঠক ও প্রতারক। সে ভখাটে। এতে চম্পা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু লম্পট দিপু তার পিছু ছাড়েনি। সোনার হরিণ কাছে পেয়ে হারাবার ভয়ে সে মরিয়া হয়ে উঠে। চম্পা বৃন্দাবন কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। দিপু প্রায়ই তাকে উত্যক্ত সহ হুমকি দিয়ে আসত। তাকে যদি সে বিয়ে না করে তাহলে যুগলের নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে। এতে চম্পা আরও ভেঙ্গে পড়ে। সম্প্রতি নবীগঞ্জে সম্ভ্রান্ত পরিবারর ছেলের সাথে বিয়ের আলাপ আলোচনা ও বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু দিপু তা জেনে যায় এবং তার আংশিক কিছু ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। 

চম্পার পরিবার দিপুর বড় ভাই যিশু ঘোষের কাছে বিচার প্রার্থী হলে সে আমলে না নিয়ে তার ভাইয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। এদিকে দিপুর উত্যক্তের কারণে চম্পা অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। গত ২ এপ্রিল বিকালে চম্পা নিজ ঘরের তীরের সাথে গলায় উড়না পেছিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে তার মোবাইল ফোনের রেকর্ড ও এসএমএস এর মাধ্যমে এ তথ্য জানতে পেওে মামলা দায়ের করা হয। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আটক দুইজনকে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে দিপুর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব ঘটনার বর্ণনা দেয় বলে জানিয়েছে ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে দুই সহোদরকে আদালত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই মামলার সহযোগী আসামী দিপুর বোন কলেজ ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা ঘোষকেও খুজছে পুলিশ। তবে সে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে অচিরেই প্রিয়াঙ্কা ধরা পড়বে। 

এদিকে শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ঘাতক দিপু ও তার ভাইয়ের শাস্তিও দাবিতে বিভিন্ন মানববন্ধন কর্মসূচীর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, শুরু থেকেই বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়েছিল। যেহেতু আসামীরা তাদের দোষ আদালতে স্বীকার করেছে। আদালদই তাদের বিরচার করবে।

পাঠকের মন্তব্য