রানা প্লাজায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি

রানা প্লাজায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি

রানা প্লাজায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি

রানা প্লাজার চারতলার একটি গার্মেন্টে অপারেটরের কাজ করতেন রাশিদা বেগম (২৫)। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ভবনটি ধসে পড়ার সময় চারতলা থেকে লাফ দেন তিনি। প্রাণে বেঁচে গেলেও ভেঙে যায় পা, গুরুতর আঘাত পান কোমরে। এখন হাঁটাচলা করতে পারেন, তবে ব্যথার কারণে মাসে দুবার থেরাপি নিতে হয়। একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে পারেন না। ছয় বছর আগের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেননি এখনো। উঁচু ভবনে উঠলে কিংবা সেলাই মেশিনের শব্দ শুনলেই ভয়ে গা কাঁপে। এ কারণে এ পর্যন্ত দুটি গার্মেন্টের চাকরি ছাড়তে হয়েছে তাকে, এখন বেকার।

রানা প্লাজার আরেক পোশাককর্মী রুবিনাকে (২৪) ভবনধসের তিনদিন পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। বুকের পাঁজর ও ডান পা ভেঙে গেছে তার। কোমরে এখনো তীব্র ব্যথা হয়। একা চলাফেরা করতে পারেন না। এ অক্ষমতার কারণে আজো কাজে ফিরতে পারেননি। অর্থাভাবে থেমে গেছে চিকিৎসাও।

শুধু রাশিদা বেগম ও রুবিনা নয়, রানা প্লাজা ধসে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের ৫১ শতাংশই এখন কর্মহীন। যদিও দুই বছর আগে এ হার ছিল ৪২ শতাংশ। শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার কারণে অনেক শ্রমিক কাজ ছেড়ে দেয়া অথবা হারানোর কারণে এ হার বাড়ছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। সম্প্রতি এ জরিপ পরিচালনা করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।

গতকাল সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘ফোর মিলিয়ন মেকিং ৫০ বিলিয়ন: হোয়্যার দ্য আরএমজি সেক্টর স্ট্যান্ডস সিক্স ইয়ারস আফটার রানা প্লাজা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

রানা প্লাজা ধসে আহত ১ হাজার ৪০০ শ্রমিকের মধ্যে ২০০ জনের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। অ্যাকশনএইডের এ জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় বছরে আহত ২০ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রমিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাদের প্রধান সমস্যা মাথা, হাত-পা ও কোমর ব্যথা। গত বছর এ হার ছিল ১২ শতাংশ। এখন ৫১ শতাংশ শ্রমিক বলছেন, তাদের শারীরিক অবস্থা কোনোরকম স্থিতিশীল। অন্যদিকে ৫১ শতাংশ শ্রমিক কাজ করতে পারছেন না। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ শারীরিক এবং ২৭ শতাংশ মানসিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে পারছেন না। তবে গত বছরের তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাকশনএইড।

অ্যাকশনএইডের তথ্য বলছে, কাজে ফেরা আহত শ্রমিকদের মাত্র ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ গার্মেন্টে ফেরত গেছেন।

এদিকে জরিপে অংশ নেয়া ২০ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন, তাদের পারিবারিক উপার্জন সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। যেখানে ইয়াকুব আলী (৩৯) নামে এক শ্রমিক জানান, তার ঘর ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার টাকা হয়েছে। কনুই, কবজি ও বুকের পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভাঙা ইয়াকুব এখন ফেরি করে বাদাম বিক্রি করে সংসার চালান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, মাসে ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ টাকার ব্যথার ওষুধ খেতে হয়। ক্ষতিপূরণের টাকা পাইনি। খুব কষ্টে বেঁচে আছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক না হওয়ায় শ্রমিকদের এ অবস্থা। গতি কমেছে পুনর্বাসন উদ্যোগেও।

এ ব্যাপারে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, সংঘবদ্ধভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়া হলে আহত শ্রমিকদের বর্তমান চিত্রটা হয়তো ভিন্ন হতো। বিচ্ছিন্নভাবে টাকা দেয়ার ফলে তেমন কোনো উপকারেই আসেনি।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য যে উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল, তার গতি কমে গেছে। বিশেষ করে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এর আইনি ভিত্তি তৈরি হয়নি। আহত শ্রমিকদের জন্য একটি হাসপাতাল হওয়ারও কথা ছিল, কিন্তু হয়নি।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুন্নাহার ভুঁইয়া বলেন, রানা প্লাজা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো, বাসস্থান ও রান্নাঘর ইত্যাদি বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নেব। মজুরি বাড়ালে বাড়িওয়ালারা সঙ্গে সঙ্গে বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এটা বন্ধে আমরা উদ্যোগ নেব।

গতকালের অনুষ্ঠানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নুজহাত জেবিন গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। এতে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনিন আহমেদ, সোস্যালিস্ট লেবার ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টউমো পৌটিয়ানেন প্রমুখ।
পুরোটা সময় ইউনাইটেড তারকাদের বড়ই অসহায় মনে হচ্ছিল। আগের ম্যাচে যে দলটি মেসিদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি, তারাই আজ স্বাভাবিক খেলা খেলতে ব্যর্থ হয়েছে। রীতিমত অসহায় আত্মসমর্পণ যাকে বলে। কিংবদন্তী কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন গ্যালারিতে বসে দেখলেন তার অবর্তমানে কতটা পথ হারিয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে একবার সুযোগ পেয়েছিল ওলে গানার সুলশারের শিষ্যরা। কিন্তু চিলিয়ান ফরোয়ার্ড অ্যালেক্সিস সানচেজের ডাইভিং হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান।

২০১৫ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের গেরো ছুটালো বার্সা। সেটাই মেসির জাদুতে। আগের লেগে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচেও তার অবদান ছিল মুখ্য। যদিও গোলটি ছিল আত্মঘাতী। কিন্তু দ্বিতীয় লেগে স্বরূপে ফিরে ইউইনাটেডকে বিদায়ই করে দিলেন বার্সা অধিনায়ক।

পাঠকের মন্তব্য