পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পর্নো তারকার নাম; ব্যবস্থা নেবে শিক্ষামন্ত্রী

পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পর্নো তারকার নাম; ব্যবস্থা নেবে শিক্ষামন্ত্রী

পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পর্নো তারকার নাম; ব্যবস্থা নেবে শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকার একটি স্কুলের বাংলা প্রশ্নপত্রে দুই পর্নো তারকার নাম নিয়ে সমালোচনা ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়ে উঠেছে বিষয়টি। তারা বলছেন, শিক্ষা নিয়ে এমন খামখেয়ালি বন্ধ করা জরুরি।

গেল ১৭ এপ্রিল বুধবার রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে এমন কাণ্ড ঘটানো হয়। বাংলা প্রথমপত্র নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নপত্রের ৮ নম্বরে, আম-আটির ভেঁপু-কার রচিত এমন প্রশ্নের বিকল্প উত্তর হিসেবে রাখা হয় পর্নো তারকা সানি লিয়নের নাম। আর ২১ নম্বরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতার নাম কী? প্রশ্নের বিকল্প উত্তর ছিল আরেক পর্নো তারকা মিয়া খলিফা। এছাড়া বেশ কিছু বানান ভুল ও অদ্ভুত সম্ভাব্য উত্তরও ছিল প্রশ্নপত্রে। এমন অদ্ভূত প্রশ্ন দেখে হতবাক হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

ছোট ছেলেমেয়েদের পরীক্ষার এমন প্রশ্নপত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও করেছেন অনেকে। সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, ‘শিক্ষাকে এতোদিন জেনে এসেছি স্রেফ "পণ্য" বলে। এখন দেখছি এটি শুধু পণ্য নয়, একেবারে "পর্ন পণ্য"।

অপর এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, রামকৃষ্ণ মিশন এ কাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের। এটি কি কেবলই একজন শিক্ষকের ভুল? আরেক সাংবাদিক, ছড়াকার পলাশ মাহবুব লিখেন, ‘হায়রে মাস্টর’।

সাবেক ছাত্রনেতা, তিতাস মোস্তফা ফেসবুকে লিখেন, ‘এমন হচ্ছে কেন? শিক্ষা নিয়েও তামাশা খামখেয়ালিপনা মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে বিচারের আওতায় নেয়া হোক। এদিকে, প্রশ্নপত্রে পর্নো তারকাদের নাম আসার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

রাজধানীর তিতুমীর কলেজে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলের প্রশ্নপত্রে পর্নো তারকাদের নাম আসাটা অন্যায়। এটি শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেই স্কুলের নামে এ অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত করে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রশ্নপত্র তৈরিকারী শিক্ষক শংকর চক্রবর্তী বলেন, এটি মানবিক ভুল। আমি বুঝতেই পারিনি, এটি এমন বিতর্ক তৈরি করবে। প্রধান শিক্ষকের পায়ে ধরে আমি ক্ষমা চেয়েছি। আর কখনো এমন ভুল হবে না। রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়প্রকাশ সরকার বলেন, এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য