বিদ্রোহী প্রার্থীর সন্ত্রাসী হামলায় আতংকে আ’লীগের নেতাকর্মীরা 

হারুন অর রশীদ গুরুতর আহত

হারুন অর রশীদ গুরুতর আহত

হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ হারুনকে নৌকার পক্ষে কাজ করায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী বিজয়ী প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী একদল সন্ত্রাসী নিয়ে রাতের অন্ধকারে হামলা চালায়। এতে হারুন অর রশীদ গুরুতর আহত হয়ে এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায়। 

এ ব্যাপারে নব নির্বাচিত ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী ঔদ্ধত স্বরে বলেন, রাস্তাত দেখা পাইছি দিছি দুইটা শট লাগি। ওর কপালে আরো বেশি দু:খ আছে। আমি ওকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। তার প্রতিদান যা দিছে, তার কিছু ওয়াশিল করতে হবে না। ওয়াশিল হইছে, আরো আস্তে আস্তে হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন মারছি সেটা তাকেই জিজ্ঞেস করেন।

ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই রজব আলী জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বিজয়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানীর সাথে দেখা করতে যান নগরাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা মার্কা নিয়ে এবং ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। নির্বাচনের সময় প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করায় তাকে গালিগালাজ করে আক্রমন করতে যান উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। এসময় আত্মরক্ষা করতে দৌঁড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। এসময় ঘটনাস্থলের কাছে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারন অর রশীদ হারুন মোটর সাইকেলে যাচ্ছিলেন। তাকে দেখতে পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের পূত্র মনোয়ার সরকার পাশা, তার চাচাতো ভাই আপেল কমিশনার ও মাসুদ পারভেজ রানাসহ ৬/৭জন মোটর সাইকেল নিয়ে চেয়ারম্যানকে ধাওয়া করে ফুলবাড়ী ব্রাক অফিসের কাছে ব্রীজের অপর পাড়ে গিয়ে আটকায়। একটু পরে সেখানে মোটর সাইকেল চালিয়ে আসে উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। তিনি চেয়ারম্যানকে মাটিতে ফেলতে বলেন। এরপর তিনি চেয়ারম্যানের বুকেও গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন। অন্যদিকে তার পুত্র ও চাচাতো ভাইরা কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এসময় নৌকার পক্ষে কাজ করায় তাকে ও তার দলের নেত্রী (শেখ হাসিনা) কে অ¯্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আধাঘন্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক নির্যাতন। পরে তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে উল্লাস করতে করতে চলে যায় তারা।

আহত হারুন অর রশীদ হারুন চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা নির্বাচনের সময় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তিনি আমার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। ওইদিন দুর্ঘটনায় আমার পায়ের নখ উপড়ে গেলে চাচাতো ভাই সাজ্জাদের মোটর সাইকেলে ফুলবাড়ী হাসপাতালে গিয়ে ব্যান্ডেজ করি। সেখান থেকে ফেরার সময় ফুলবাড়ী পুবালী ব্যাংকের সামনে উপজেলা চেয়ারম্যান আমাকে দেখতে পেয়ে গালিগালাজ করে আমাকে ধরতে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়। এসময় আমরা মোটর সাইকেল চালিয়ে সেখান থেকে সড়ে পরার চেষ্টা করি। কিন্তু তার পূত্র মনোয়ার সরকার পাশা আমাদেরকে ফুলবাড়ী প্রবেশের কাছে বড় ব্রীজের নিকট মোটর সাইকেলে গতিরোধ করে। মনোয়ার সরকার পাশা সাজ্জাদকে লাত্থি দিয়ে রাস্তা থেকে নীচে ফেলে দেয়। এসময় আমার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আপেলসহ বেশ কয়েকজন লাত্থিঘুষি মারে। কিছুক্ষণের মধ্যে গোলাম রব্বানী সরকার ঘটনাস্থলে এসে আমাকে রাস্তায় শুইয়ে আমার বুকে ও গলায় পা দিয়ে বলে, এবার তোকে কোন আওয়ামীলীগের বাচ্চা বাঁচাবে বল। একথা বলে আমার উপর পাষবিক নির্যাতন করতে থাকে। আমার নাক-মুখ ফেটে যায়। নিশ^াস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তারা আমাকে প্রায়ই মেরেই ফেলেছিল।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নৌকা প্রার্থী আতাউর রহমান শেখ জানান, নৌকার পক্ষে কাজ করায় বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান আমার কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে হামলা করে আসছে। শুধু তাই নয় বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। একই কারণে শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এজাহার আলীর উপর সন্ত্রাসী হামলা ও ইউনিয়ন পরিষদের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসেন আলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। ফলে উপজেলা ব্যাপি ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী সন্ত্রাসী গোলাম রব্বানীর ভয়ে আতংকিত হয়ে পরেছে। প্রশাসন অদৃশ্য কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ফুয়াদ রুহানী জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আহত ফুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ হারুনকে তার বাসা থেকে উদ্ধার করে জীপযোগে ফুলবাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসি। সেখান থেকে রংপুরে রেফার্ড করা হলে এ্যাম্বুলেন্সে বড়বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিই। এ ব্যাপারে স্বজনরা মামলার জন্য যোগাযোগ করছে বলে তিনি জানান।

পাঠকের মন্তব্য