জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচার ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ জনগণ

জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচার ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ জনগণ

জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচার ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ জনগণ

চট্টগ্রাম অঞ্চল-২ এর বিভাগীয় দায়িত্বশীল বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তবিদ জনাব আমির হোসেন বলেছেন, জুলুম-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচার ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের জনগণ অতিষ্ঠ। বর্তমান সব সমস্যা দূর করে আদর্শ দেশ গঠনে আল্লাহ প্রদত্ত ঐশি বিধান খেলাফত শাসন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। 

একমাত্র খেলাফত পদ্ধতির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই মারা-মারি, হানা-হানি ও রক্তপাত দূর করে দেশে শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। কুরআন-সুন্নাহর শাসন ছাড়া দেশে ইনসাফ কায়েম হবে না। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর রোড ঈদগা বউবাজারের এন্টিক রেস্টুরেন্টে ইসলামী সমাজ চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত মানবজাতির মূল সমস্যা তার সমাধান শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির চরিত্রকে নাস্তিক্যবাদে রূপান্তর করে, দেশ থেকে ইসলামী মূল্যবোধকে বিলীন করার ষড়যন্ত্র চলছে। তাই দেশে নাস্তিকায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ, ইসলামী মূল্যবোধে উৎসাহ ও দেশে ইসলামী রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল মুসলিম শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 

চট্টগ্রাম মহানগরীর দায়িত্বশীল মো.রুহুল আমিনের পরিচালনায় ইসলামী সমাজের সদস্য জনাব মো. জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল-১ এর বিভাগীয় দায়িত্বশীল বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন জনাব আজমুল হক। আজমুল হক তার বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ তা’আলা কতৃক মনোনীত জীবন ব্যবস্থা ইসলামে রয়েছে মানুষের পার্থিব ও পরকালীন জীবনের মুক্তি ও সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা। রয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সকল পর্যায়ের সকল কাজের জন্য পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা। এরই আলোকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর খলীফাগণ এবং যুগে যুগে মুসলিম শাসকবৃন্দ দক্ষ হাতে শান্তি ও সমৃদ্ধিপূর্ণভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য নজীর স্থাপন করে গেছেন। 

তিনি আরো বলেন, আমরা এখন এমন একটি যুগে অবস্থান করছি, যখন গোটা মানবজাতি মনগড়া মতবাদ গ্রহন করে ইসলামের বাহিরে অবস্থান করছে আর সিংহভাগ মুসলিম ও ইসলামের বিপরীত কাজে লিপ্ত রয়েছে। তারা দিব্যি ইসলামের বিপরীত কাজ তো করেই যাচ্ছে কিন্তু তাদেরকে ধর্ম বা জাতি হিসেবে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তারা নিজেদের পরিচয় দেয়- মুসলিম হিসেবে এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বী হিসেবে। অথচ তাদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তারা অহরহ ইসলামের বিপরীত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা কোন জনপদের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক অবস্থা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন,অভ্যাস, রুচি, ধর্মসহ সকল বিষয়ের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। রাষ্ট্র যদি কোন আদর্শ লালন করে থাকে তবে তা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সহজেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। আর রাষ্ট্র যদি কোন আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তবে তা রাষ্ট্রীয় বৈরী আচরণের কারণে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘদিন পরে তা নি:শেষ হয়ে যায়, যার কোন অস্তিত্ব থাকে না। দ্বীনের ক্ষেত্রেও তাই। 

রাষ্ট্রীয় সমর্থন তথা খেলাফত যদি কোন দ্বীনের অনুকূলে থাকে তবে সে দ্বীন জনপদে প্রতিষ্ঠিত হয়। কোন কারণে যদি দ্বীন রাষ্ট্রের আনুকূল্য হারায় তবে দ্বীনি কার্যক্রম আস্তে আস্তে সংকুচিত হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দ্বীনের অস্তিত্বই হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। সেজন্য খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রয়োজন পরিমাণ আন্দোলন-সংগাম করা অপরিহার্য। তিনি সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব,মনগড়া আইন-বিধানের আনুগত্য ও মিথ্যা আইনের ধারক অবৈধ নেতাদের নেতৃত্বকেই মহা মিথ্যা-মানব জাতির মূল সমস্যা বলে তলে ধরেন। 

তিনি জাতির লোকদের কে সকল সমস্যা থেকে মুক্তির লক্ষে প্রতিষ্ঠিত মহা মিথ্যা ত্যাগ করে মহাসত্য-সমাজ ও রাষ্ট্রসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর,এবং তারই সংবিধানের আনুগত্য ও সর্বশেষ নবী ও রাসুল সা. এর শর্তহীন আনুগত্য গ্রহন করে,ঈমান আনতে হবে এবং জাহিলী সমাজ ত্যাগ করে আমীরের আনুগত্যের বায়আত নিয়ে ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে আমীরের নেতৃত্বে রসুলের আদর্শে আল্লাহর বিধান মোতাবেক নিজেদের জান-মাল ব্যায়ের মাধ্যমে দ্বীন কায়েমের চুরান্ত চেষ্টা করে একদল লোক ঈমানের পরিক্ষায় উত্তির্ন হলে খিলাফাত কায়েম হয়ে দুনিয়ায় সকল মানুষের সকল সমস্যার সমাধান হবে এবং এপথে চেষ্টারত অবস্থায় মৃত্যুবরন কারিদের আল্লাহ ক্ষমা ও জান্নাত দান করবেন। ইসলামী সমাজ এপথেই এগিয়ে চলেছে,আসুন ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে মুক্তির পথে জীবন গড়ি। 

আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল-২ এর সহ: দায়িত্বশীল সৈয়দ মো.কবীর, সদস্য রমজান, রফিক,মফিজ মনসুর ও সরওয়ার। দোয়ার মাধ্যমে সভা সমাপ্ত হয়।

পাঠকের মন্তব্য