ঋণখেলাপিদের মাফ করতে যাচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী 

ঋণখেলাপিদের মাফ করতে যাচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী 

ঋণখেলাপিদের মাফ করতে যাচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী 

ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। তবে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বললেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আজ রোববার সংসদে সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বেই ঋণখেলাপিদের মাফ করে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন কার্যকর ছিল না। যে কারণে ব্যাংকে ঢুকলে সেখান থেকে বের হওয়ার পথ ছিল না। তাই আমরা আইনগুলো কার্যকর করে সেই আইনি প্রক্রিয়ায় সহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করে সবাইকে মাফ করার ব্যবস্থা করব।

তিনি বলেন, এরমধ্যে অনেক বির্তক হচ্ছে। অনেকে অনেক রকম কথা বলছে। মাফ কিন্তু সারা বিশ্বেই করে। আমাদের দেশে কিন্তু মাফ করার ব্যবস্থা ছিল না। কারণ আমাদের দেশে দেউলিয়া আইন এবং ব্যাংক আর্বিটেশন যেগুলো আছে সেগুলো কার্যকর ছিল না। সেইজন্য একবার ব্যাংকে ঢুকলে সেখান থেকে আর বের হওয়ার পথ ছিল না।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একটা ইকুইটেবল পরিস্থতি তৈরি করে এখন থেকে মাফ করার ব্যবস্থা করব। সব ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠিয়ে দিয়ে দেশের অর্থনীতি চালানো যাবে না। তবে আবার সবাইকে মাফও করা যাবে না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হয় যায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অ্যাকশন অবশ্যই নিতে হবে। আমাদের কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটোর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্তদের নিয়ে আমি নিজেও এক-দুই দফা মিটিং করেছি। আরও মির্টিং করব। মির্টিং করে আর দশটি দেশের পুঁজিবাজার যেভাবে চলে সেভাবে চালানোর চেষ্টা করব। যেসব জায়গায় বিচ্যুতি আছে তা অবশ্যই দূর করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত চাঙা। অত্যন্ত শক্তিশালী। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও আইএমএফ আমাদের অর্থনীতি দেখে উচ্ছ্বসিত। তারা অন্যান্য দেশগুলোকে বাংলাদেশকে অনুসরণ করতে বলেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের এগিয়ে যাওয়া থমকে যাবে যদি পুঁজিবাজারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারি। কোনো দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার প্রথম প্রতিফলন পুঁজিবাজার দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে পুঁজিবাজার ও অর্থনীতি এভাবে সম্পৃক্ত থাকে।

তিনি বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে যতটা যত্নশীল, পুঁজিবাজার নিয়েও ততটাই আন্তরিক। আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজারে জন্য প্রণোদনা থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা অবশ্যই থাকবে। তবে কতটা থাকবে, সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করব।

পাঠকের মন্তব্য