বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা আছে, নাই 

বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে নাটকের পর নাটক চলছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া অচিরেই মুক্তি পাচ্ছেন। মুক্তি পেয়ে তিনি সৌদি আরবে চিকিৎসার জন্য যাবেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ত্রিপাক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে চুড়ান্ত হচ্ছে। বেগম জিয়ার পরিবার, সরকারের প্রতিনিধি দল, এবং সৌদি দূতাবাস এই খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি তদারকি করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৬ টি মামলা রয়েছে।

মুক্তি পেতে হলে আরো ৪টি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন পেতে হবে। এর মধ্যে জিয়া এতিম খানা মামলা উচ্চ আদালতে জামিনের অপেক্ষায় আছে। জিয়া এতিম খানা মামলায় জামিনের আবেদন করা হয়েছিল গত সপ্তাহে। তখন বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বলেছিল নিম্ন আদালত থেকে তার নথি আসতে হবে। এর জন্য দুই মাস সময় বেধে দিয়েছে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তি করার অভিযোগে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে যে দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নেই, সেই মামলাগুলোও আইনী জটিলতায় আটকা পড়ে আছে।

সহসা তার জামিন সম্ভব নয় বলে আইনজীবিরা মনে করছেন। কাজেই জামিন নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা আপাতত নেই। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পরিবার প্যারোল নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন। বেগম খালেদা জিয়া সকালে প্যারোলের পক্ষে বললেও বিকালে তিনি প্যারোলের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে প্যারোলে আবেদন করতে হবে আসামীর নিজেকেই। তাকে অপরাধ স্বীকার করতে হবে। পরবর্তীতে এই মামলার আইনী লড়াইয়ের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ কারণেই প্যারোলটি অসম্মানজনক মনে করছেন বেগম জিয়া। যার কারণে বেগম জিয়ার প্যারোলে উৎসাহী নন।

এর মধ্যে বেগম জিয়ার পরিবার খালেদা জিয়ার প্যারোল মুক্তির জন্য তৃতীয় একটি পথ খুঁজে পেয়েছে বলে জানা গেছে।  সে পথটি হলো বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা একটি প্রতিবেদন দিবেন উন্নত চিতিৎসার জন্য। সেই প্রতিবেদনে যদি থাকে তার দেশের বাইরে চিকিৎসা প্রয়োজন। এই প্রতিবেদনের আলোকে হাইকোর্ট বা দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাকে জামিন দিতে পারেন।

চিকিৎসক দলের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে অসুখ রয়েছে তা দীর্ঘমেয়াদি এবং ভিন্ন পরিবেশে তাঁর চিকিৎসা করা প্রয়োজন। এখানে তাঁরা খুব বেশী উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলেও তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে একটা বিষয়ে পরিষ্কার হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া হয়তো চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাবেন।

সৌদি দূতাবাসের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছে যে, সৌদি দূতাবাস বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যেতে চায়। বেগম জিয়া কি চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবে যাচ্ছেন এ ব্যাপারে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় যে, সৌদি আরবে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা গত কয়েকদিনে সৌদি আরবের কিং ফয়সাল ইন্সটিটিউট হাসপাতালে যোগাযোগ করছেন।

উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া এখানেই হার্টের অপারেশন করিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বেগম খালেদা জিয়া, ঈদের আগেই আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়ে সৌদি আরবে চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন বলে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য