রাজনীতি থেকে তারেক'কে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত খালেদার 

তারেক'কে খালেদা জিয়া

তারেক'কে খালেদা জিয়া

বিএনপিতে নেতৃত্বের রোমান্স জমে উঠেছে। বিএনপির নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব জাতীয় পার্টির দ্বন্দ্বকেও হার মানিয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের কেবিনে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার পুত্র তারেক জিয়ার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

আগামীকাল বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং বোনসহ নিকটজন দেখা করতে যাবেন। তখনই হয়তো খালেদা জিয়া তারেককে দল থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন। কারণ বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরামর্শ না করেই দলের পাচজন সদস্যের শপথ গ্রহণের বিষয়টা নিয়ে বেজায় চটেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এখন তার নিজের পুত্রকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না। 

আজ বেগম জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. মামুনকে বলেছেন, তারেক কার বুদ্ধিতে এসব করছে তা আমি জানি না। এগুলোতে দলের সর্বনাশ ঘটাচ্ছে। ওকে আপাতত সরিয়ে রাখতে হবে। 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামীকাল বেগম খালেদা জিয়ার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার নিকটজনের। সেখানে হয়তো বেগম খালেদা জিয়া সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারেন। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া আজ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দলের যেকোন একজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ এই আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়ে দিবে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি অনুমতি দেয়, তাহলেই বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ দেখা করতে পারবে।

উল্লেখ্য, গত পয়লা বৈশাখেই বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং নজরুল ইসলাম খান সাক্ষাৎ করেছিলেন। একমাস অতিক্রান্ত না হলে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাতের সম্ভাবণা কম। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ বিবেচনায় যেকোনো ব্যক্তিকে সাক্ষাতের অনুমতি দিতে পারে।

বিএনপিতে সাম্প্রতিক সময়ে শপথ নিয়ে যে টালমাটাল অবস্থা চলছে তাতে নতুন মাত্রা যোগ করলো বেগম খালেদা জিয়ার মনোভাব। শপথের পর আজই বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিক মনোভাব জানিয়েছেন বলে ডা: মামুন জানান। বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাই বেগম জিয়ার এই মনোভাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। 

কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত নার্স, চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, বেগম জিয়া আজ সকালেই উত্তেজিত হয়ে জানতে চান ‘শপথ তো নিলো, আমার মুক্তি কোথায়?’ তিনি মনে করেন এই ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং আপোষকামী রাজনীতি বিএনপির সঙ্গে মানানসই নয়। এই কারণেই বিএনপির ভরাডুবি হচ্ছে।

এজন্যই তিনি তাঁর পূত্র তারেক জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও বিএনপিতে তা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কারণ ২০০১ সালের পর থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার হাতে বিএনপির নাটাই নেই। বিএনপি চলছে তারেক জিয়ার নির্দেশেই। 

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগর কমিটি, ঢাকা জেলা কমিটি, মহিলা দলের কমিটি এককভাবে তারেক জিয়ার নির্দেশে এককক পরিকল্পনায় হয়েছে। তাই বেগম জিয়া কারাগারে থেকে দলের নিয়ন্ত্রন কতটুকু নিতে পারবেন সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে বিএনপিতে বেগম খালেদা জিয়া তারেক জিয়ার চেয়ে অনেক জনপ্রিয়। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।। তাঁরাও চাইছেন বেগম জিয়া সরব হলেই তারেক জিয়াকে আপাতত সরিয়ে দল গঠন করতে। 

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা বলেছেন যে, তারেক জিয়া যদি বিএনপির নেতৃত্বে থাকে তাহলে এই দলের পুনর্গঠন সম্ভব না। এই দলের মৃত্য অনিবার্য। কাজেই যত দ্রুত সম্ভব বেগম খালেদা জিয়ার তদারকিতে বিএনপিকে আনা যায় ততই মঙ্গল।  

পাঠকের মন্তব্য