ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র আতঙ্কে পর্যটক শূন্য নগরী কক্সবাজার 

‘ফণী’র আতঙ্কে পর্যটক শূন্য নগরী কক্সবাজার 

‘ফণী’র আতঙ্কে পর্যটক শূন্য নগরী কক্সবাজার 

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। গত দুইদিন কোনো ধরনের পর্যটক কক্সবাজার আগমন করেননি। তবে যারা এর আগে কক্সবাজার এসেছিলেন একে একে তারাও ফিরে যাচ্ছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

তিনি বলেন, ‘সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কক্সবাজারে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত থাকায় রাতেই সকল পর্যটক নিজ গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছে। কোনো ধরনের পর্যটক এখন কক্সবাজার অবস্থান করছে না। সাগর উত্তাল থাকায় কেউ সাগরে নামতে পারেনি বা আকাশে মেঘ থাকায় বের হতে পারেননি।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লাইফগার্ড কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কাউকে সাগরে নামতে দেওয়া হচ্ছে না।’

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শক্তশালী ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৬ নম্বর নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

অপরদিকে কক্সবাজার সমূদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০-১১০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য