সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া মুক্তি মিলবে না খালেদা জিয়ার  

সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া মুক্তি মিলবে না খালেদা জিয়ার  

সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া মুক্তি মিলবে না খালেদা জিয়ার  

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যতই আশাবাদ সৃষ্টি হোক না কেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া তা কার্যকর হবে না। এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী লন্ডনে আবস্থানরত প্রধানমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, কেবলমাত্র রাজনৈতিক কারণেই বেগম জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে। তবে দুদকের আইনজীবী জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণে নয় আইনি প্রক্রিয়াতেই আটকে আছে বেগম জিয়ার জামিন।

এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, সরকারের বাধার কারণেই বেগম জিয়া তার জামিন পাওয়ার আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারপক্ষ বেগম জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করছে।

মানবাধিকার আইনজীবী মঞ্জিল মোরশেদ মনে করেন, হাইকোর্টে বেগম জিয়ার জামিনের পর  এর বিরুদ্ধে সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলের আপিল করার ফলে সরকারপক্ষ যে এ মামলায় হস্তক্ষেপ করছে না- সে বক্তব্য দুর্বল হয়ে যায়।  

এ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং মানহানির দু’টি মামলায় জামিন নেয়া বাকি রয়েছে। এ ছাড়া বাকী ৩২টি মামলায় তিনি জামিনে আছেন।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পর দু’টি মানহানি মামলা করা হয়। এই মামলা দু’টি ঢাকা সিএমএম কোর্টে রয়েছে। এই মামলায় আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় ওয়ারেন্ট দেয়া হলেও এখনো তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর পর তিনি জামিনের আবেদন করতে পারবেন।  

গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে অর্থদণ্ড স্থগিত ও সম্পত্তি জব্দের আদেশের ওপর স্থিতাবস্থার নির্দেশ দেয় আদালত।

তবে মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেনি হাইকোর্ট। জামিনের আবেদনটি নথিভুক্ত করে দুই মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করা হয়। নথি পাওয়ার পর জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করবে বলে জানান আদালত। জামিনের বিষয়ে আদালত বলেন, সাত বছরের সাজার মামলায় আমরা জামিন দেই না, তা না। যেহেতু অন্য একটি মামলায় উচ্চতর আদালত সাজা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ওই মামলায় জামিন না হলে তিনি মুক্তি পাবেন না। ফলে বিষয়টি জরুরি দেখছি না। মামলার নথি আসুক, তখন জামিনের আবেদনটি দেখা হবে।

অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন এবং একই সাথে তার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এই আপিল আবেদন আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর হাইকোর্ট খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল খারিজ করেন এবং দুদকের আপিল গ্রহণ করে খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এই রায় বাতিল ও খালাস চেয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল আবেদন করেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। সেখানে সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ছিল। আমরা যতই বলি না কেন আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি জামিনে মুক্ত হবেন- এটা একটা অবাস্তব কথা; যে পর্যন্ত না সরকারের সদিচ্ছা হবে।  কারণ একটি মামলায় আমরা জামিন নেব, তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দেয়া হবে। এইভাবে তার কারাজীবন দীর্ঘায়িত করা হবে।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যে কেসে যেভাবে তাকে রাখা হয়েছে, আইনের বিধান মোতাবেক আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আসামি যদি মহিলা হয়, অসুস্থ হয়, বয়স্ক হয়, সেখানে জামিনের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা করা হয়; কিন্তু এই ক্ষেত্রে তাও করা হয়নি। অর্থাৎ যে পর্যন্ত না সরকার ইচ্ছা করবেন যে তাকে মুক্তি দেয়া হবে তখনই তিনি মুক্তি পাবেন। আমি আবারো বলছি, সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি বের হতে পারবেন না।

এ দিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ প্রতীকী অনশন পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল।

আজ (শনিবার) নয়া পল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা।

পাঠকের মন্তব্য