সুদ আদায়ে নির্দেশনা মানছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি   

সুদহার নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি

সুদহার নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি

ব্যবসায়ীদের আবেদন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিঙ্গেল ডিজিটে (১০ শতাংশের নিচে) সুদহার নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকরা। গত বছরের জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দেয় ব্যাংক উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন ‘বিএবি’। এটি বাস্তবায়নে সরকারের কাছ থেকে নানা সুযোগ-সুবিধাও নেয় ব্যাংকগুলো। কিন্তু কাজরে কাজ কিছুই হয়নি।

এখনও ১০ শতাংশের ওপরে গড় ঋণের সুদ আদায় করছে ২৮ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। খাতভিত্তিক ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ আদায় করছে অনেক ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গেল বছরের জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দেয়ায় ঘোষণা দিয়েছিল ব্যাংক উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন ‘বিএবি’। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ ঘোষণা দেন তারা। তাই যেসব ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামাননি; তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করেছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) নির্দেশনাও লঙ্ঘন করছে অনেক ব্যাংক। স্প্রেড ৪ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে রাখার নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্চ মাস শেষে ২৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদহার ১০ শতাংশের বেশি আদায় করছে। ৩৪টি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে রয়েছে। মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে অনেক ব্যাংক এখনও স্প্রেড নিচ্ছে ৮ শতাংশের ওপরে।

তারল্য ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ কেন্দ্র করে সুদহার বাড়তে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বছরের ৩০ মে এক নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো বিভিন্ন প্রকার ঋণের সুদহার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি করছে। ঋণের সুদহার অযৌক্তিক মাত্রায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে যা উদ্বেগজনক। তাই সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে ভোক্তাঋণ ও ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে স্প্রেড ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আগে যা ৫ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে ১০ শতাংশের বেশি ঋণের সুদ নিচ্ছে ২৮টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের ১১ দশমিক ২১ শতাংশ, সিটি ব্যাংকের ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ, আইএফআইসির ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ, এনসিসির ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংকের ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ডাচ্-বাংলায় ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ডে ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ, এক্সিমের ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, প্রিমিয়ারে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ, ফাস্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ, যমুনা ব্যাংকের ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকে ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারে ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, মেঘনায় ১২ দশমিক ০৪ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, পদ্মা ব্যাংকে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংকে ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ, এনআরবি গ্লোবালে ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, মধুমতি ব্যাংকে ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্প্রেডহার সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের। ব্যাংকটি আমানতের গড়ে এক দশমিক ৫৩ শতাংশ হারে সুদ দিয়েছে। ঋণের বিপরীতে গড় সুদ নিয়েছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বিদেশি খাতের এ ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ডাচ্-বাংলা সুদ দিয়েছে ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ আর ঋণে নিয়েছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ব্যাংকটির স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংক আমানতের বিপরীতে সুদ দিয়েছে ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ঋণের বিপরীতে নিয়েছে সুদহার ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যাংকটির স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।

পাঠকের মন্তব্য