মাশরাফিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, ৬ চিকিৎসককে শোকজ

মাশরাফিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, ৬ চিকিৎসককে শোকজ

মাশরাফিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, ৬ চিকিৎসককে শোকজ

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি মর্তুজাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন ভাষায় স্ট্যাটাস দেওয়া, মন্তব্য করা ও পোস্ট শেয়ার করায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ছয় চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সোমবার (৬ মে) মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব শামীমা নাসরিন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

নোটিশগুলো অনুসারে, বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিকস বিভাগের রেজিস্ট্রার ডাঃ আইরিন আফরোজ; কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ পঞ্চানন দাশ; নওগাঁ জেলা হাসপাতালের ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মৌমিতা জুলি; মুন্সিগঞ্জের রসুলপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ ফাহমিদা হাসান; চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের হেমাটো অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম রেজাউল করিম ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এদের মধ্যে ডাঃ আইরিন আফরোজ, ডাঃ পঞ্চানন দাশ ও ডাঃ এ কে এমকে মাশরাফিকে নিয়ে অশালীন ও অযাচিত ভাষার পাবলিক পোস্টে মন্তব্য; ডাঃ মৌমিতা জুলি ও ডাঃ আমিনুল ইসলামকে অশালীন ভাষায় মাশরাফিকে নিয়ে পোস্ট দেওয়া এবং ডাঃ ফাহমিদা হাসানকে এমন একটি পোস্ট শেয়ার দেওয়ায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশগুলোতে বলা হয়, তাদের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য মানানসই নয়। এ ধরণের স্ট্যাটাস দেওয়া অশোভনীয় আচরণ ও সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) ধারা মোতাবেক তাদের এসব কার্যক্রম ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

নোটিশে ছয় চিকিৎসককে কেন সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে অভিযুক্ত করা হবে না সে বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য ও জাতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি গত ২৫ এপ্রিল নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে কোনো চিকিৎসককে উপস্থিত পাননি তিনি। এমনকি নার্সও ছিলেন মাত্র দু’জন। তিনি হাজিরা খাতায় বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের হাজিরাও দেখতে পাননি। অনুপস্থিত কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে তিনি তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোনে কথা বলেন। কিন্তু তারা কেউ সদুত্তর দিতে পারেননি।

পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ওই হাসপাতালের চার চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া চিকিৎসকরা হলেন- সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. মো. আখতার হোসেন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. শওকত আলী, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. রবিউল আলম ও মেডিকেল অফিসার ডা. এ এস এম সায়েম।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনার পর দেশজুড়ে বিভিন্ন চিকিৎসকরা মাশরাফির সমালোচনা করে তাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় পোস্ট দেন।

পাঠকের মন্তব্য