অন্তঃকোন্দলে ভুগছে সংসদীয় বিরোধী দল জাতীয় পার্টি

অন্তঃকোন্দলে জাতীয় পার্টি

অন্তঃকোন্দলে জাতীয় পার্টি

অন্তঃকোন্দলে ভুগছে সংসদীয় বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তার স্ত্রী সাবেক বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদের পুরানো দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের অমীমাংসিত। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সময়ে সময়ে তাদের মধ্যকার এ সম্পর্ক প্রকাশ পায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন পড়ে।

সাম্প্রতিক কয়েক বছর ধরে দলের নানা ইস্যুতে স্বামী এরশাদের সঙ্গে স্ত্রী রওশন এরশাদের প্রায়ই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। এরশাদের অবর্তমানে দলের নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল অনেকদিন ধরে। গত মাস থেকে এরশাদ-রওশন টানাপড়েন সম্পর্ক জনসম্মুখে ফুটে উঠতে শুরু করে।

সর্বশেষ গত শনিবার মাঝরাতে হঠাৎ সাংবাদিকদের বাসায় ডেকে নিয়ে জিএম কাদেরকে জাপার ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান এবং তার অসুস্থতাকালীন সময়ের জন্য তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন এরশাদ। তাকে সাংগঠনিক দায়িত্বও দেয়া হয়। এরপর থেকেই মূলত আবারো এরশাদের ওপর নাখোশ হন স্ত্রী রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা।

তাকে না দিয়ে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বেগম রওশন এরশাদ ও তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্য।

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট। তৃণমূল থেকে শুরু করে পার্টির এমপি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আমাকে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পার্টির সব কাজে তারা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছে। পার্টির কাউন্সিল সম্পন্ন করে তৃণমূল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে আমার মূল কাজ। এছাড়া দলের সবাইকে নিয়ে আমি জাতীয় পার্টিকে আরও সুসংগঠিত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার পর থেকে রওশনপন্থি হিসেবে পরিচিতি নেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। জাপা প্রধানের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নিজ বলয় ভারী করে এরশাদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন তারা। ভেতরগতভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন এরশাদের প্রতি। তারা চাচ্ছেন পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদকে পার্টির ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান করতে।

জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সদস্য বলেন, দলের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী রওশন এরশাদ ম্যাডাম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার কথা, কিন্তু কিছু নেতা স্যারকে ভুল বুঝিয়ে জিএম কাদের সাহেবকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছেন। দেখি এ সিদ্ধান্ত কতদিন থাকে, এই সিদ্ধান্ত আবারো পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পরিবর্তন হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এই ক্ষেত্রে সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দীন বাবলু বা রুহুল আমিন হাওলাদারকেই আবারো জাপার মহাসচিব করা হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, আমরা পার্টি করি এরশাদ সাহেবের। দল যেহেতু তার, তিনি যখন যা সিদ্ধান্ত নেন তা আমরা মেনে নিতে বাধ্য। কিছু দিন আগে তিনি যখন জিএম কাদের সাহেবকে কো-চেয়ারম্যানের পদ ও বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন তখন তা আমরা মেনে নিয়েছি। এখন আবারো তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছেন তাও মেনে নিয়েছি।

জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, জি এম কাদের সাহেবকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় দল আরও চাঙ্গা হবে বলে মনে করি। কারণ স্যার এখন শারীরিক অসুস্থতার কারণে দলের সাংগঠনিক কাজ করতে পারছেন না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এরশাদের জাপা। ওই নির্বাচন ইস্যুতে জাপায় এরশাদ ও রওশনকে কেন্দ্র করে দলে দুটি বলয় তৈরি হয়। এরপর থেকে জাতীয় পার্টি চলছে বলয় দুটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি।

পাঠকের মন্তব্য