কুড়িগ্রামে ভেস্তে যাচ্ছে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির কার্যক্রম  

কুড়িগ্রামে ভেস্তে যাচ্ছে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির কার্যক্রম  

কুড়িগ্রামে ভেস্তে যাচ্ছে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির কার্যক্রম  

হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামে টিসিবি’র খোলা বাজারে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে। রমজান মাসে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার ৬টি পণ্যে ভর্তুকি দিয়ে কম মূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নিলেও ডিলারদের অনিহার কারণে সেটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। জেলার ২৪ জন ডিলারের মধ্যে ২২ জনই পণ্য উত্তোলনে গড়িমশি করায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ ভোক্তারা। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ হতাশ।

ব্যবসা-বাণিজ্য শাখার অফিস সহকারি আব্দুর রহমান, সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও শুরু হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র এই কার্যক্রম। তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা এবং ডাল বিক্রয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম চলবে রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত। এ পণ্যগুলো টিসিবির ট্রাক ও নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কেনার কথা থাকলেও জেলার শুধুমাত্র দু’জন ডিলার ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করছে। প্রতি কেজি চিনি ৪৭ টাকা, মসুর ডাল ৪৪ টাকা এবং সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা, ছোলা ৬০টাকা এবং খেজুর ১৩৫টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি’র ট্রাক থেকে প্রতিদিন চিনি চারশ কেজি, মসুর ডাল তিনশ কেজি, ছোলা তিনশ কেজি, খেজুর ৩০ কেজি, তেল পাঁচশ লিটার বিক্রি করা হবে। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ৪ কেজি করে চিনি ও মসুর, ছোলা, ডাল, তেল ৫ লিটার এবং খেজুর ১ কেজি কিনতে পারবে। 

কিন্তু সে নিয়ম না মেনেই খেজুর আধা কেজি এবং অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে ডিলার তেল বাধ্যতামূলক করায় অনেকেই পণ্য ক্রয় করতে বিমুখ হচ্ছেন। এছাড়াও খেজুরের মান নিয়েও রয়েছে ক্রেতাদের মাঝে প্রশ্ন। প্রচার প্রচারণা না থাকায় এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করায় বেশিরভাগ মানুষের তা নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। 

জনসম্মুখে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি না করার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ডিলার শাহিন জানান, মানুষজন জানেন এখানে বিক্রি হয় তাই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তেল বাধ্যতামূলক করা সম্পর্কে তিনি জানান বরাদ্দ বেশি থাকায় এই ব্যবস্থা। আর খেজুরের মান সঠিক রয়েছে দাবি তার। 
পৌরবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, বর্তমান বাজারে ছোলা ৯৫টাকা, চিনি ৫৫টাকা,মসুর ডাল মাঝারি ৬০টাকা এবং সয়াবিন তেল ৯৮ এবং খেজুর ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, এখন পর্যন্ত ২জন ডিলার টিসিবি পণ্য বিক্রি করছেন। আর বাকি ডিলারগণ এখনো পণ্য উত্তোলন না করায় তাদের কার্যক্রম শুরু করেননি। মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করে সরকারের দেয়া টিসিবি’র পণ্য যেন সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারেন সেই উদ্যোগ নেবার আশ^াস দেন তিনি। 

পাঠকের মন্তব্য