ফের ভাস্কর্য বিতর্ক বাংলাদেশে, নারী ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি 

ফের ভাস্কর্য বিতর্ক বাংলাদেশে, নারী ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি 

ফের ভাস্কর্য বিতর্ক বাংলাদেশে, নারী ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি 

ফের ভাস্কর্য বিতর্ক বাংলাদেশে৷ সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে গ্রিক দেবীর আদলে তৈরি করা আইনের প্রতীক নিয়ে যে চরম বিতর্ক দানা বেধেছিল সেরকমই আরও একটি ভাস্কর্য নিয়ে শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা৷ ধর্মীয় মূল্যবোধের দোহাই দিয়ে শতাব্দী প্রাচীন নারী মূর্তি ভেঙে দেওয়া হোক, এমনই দাবি করা হচ্ছে৷ তাতে লেখা হয়, এই ধরণের ভাস্কর্যের কারণে বাড়ছে ধর্ষণ৷ কিন্তু প্রশাসন কঠোর৷ এই মূর্তি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের অধীনস্ত৷ ঘটনাস্থল ময়মনসিংহের বিখ্যাত শশীলজ৷

স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই ময়মনসিংহ ছিল বর্ধিষ্ণু এলাকা৷ স্থানীয় জমিদার আচার্য চৌধুরী বংশের বিখ্যাত রাজবাড়ি ও তার বাগান দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যে ঘেরা৷ এই পরিবার ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষভাবে জড়িত৷ জানা যায়, শশীলজ ছিল মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর ছেলে মহারাজ শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর বসতভিটা।

১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেটি ধসে পড়ে। পরে বর্তমান ভবনটি গড়ে তোলা হয়। মহারাজ শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী বাড়ি আকর্ষণীয় করে তুলতে এর সামনে ফোয়ারা স্থাপন করেন। আর সেই ফোয়ারার মাঝখানে ঠাঁই পায় শ্বেতপাথরের স্বল্পবসনা নারী ভাস্কর্য। পর্যটকরা শশীলজের ওই ভাস্কর্য এবং স্থাপত্যশৈলীতে মুগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জমিদারবাড়িটির দায়িত্ব নিয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন তা সকাল থেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শশীলজের নারী ভাস্কর্য নিয়ে অপপ্রচার শুরু হয়। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ভাস্কর্যটির ছবি পোস্ট করে বলা হচ্ছে এমন ভাস্কর্যের জন্য দেশে ধর্ষণ বেড়ে যাচ্ছে। এই বিতর্কের জেরে স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ৷ অনেকেই ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন যাতে এই বাড়ি ও তার নারী ভাস্কর্যের সুরক্ষা বজায় থাকে৷ নিরাপত্তার কারণে পুলিশকে চিঠিও দিয়েছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় জাদুঘরের সহকারী সাবিনা ইয়াসমিন জানান,‘শশীলজের দৃষ্টিনন্দন নারী ভাস্কর্যটি নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট জাদুঘর কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ১৭ এপ্রিল চিঠি দিয়েছি।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, শশীলজ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কে বা কারা, কোন উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য