কুড়িগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

কুড়িগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

কুড়িগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নলেয়া গ্রামে এক কিশোরী (১৪) কে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার অপরাধে বাদশা মিয়া নামে এক ধর্ষককে একই মামলায় দুটি ধারায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাস সশ্রম কারাদন্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৫ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। উভয় দন্ডাদেশ একই সঙ্গে কার্যকর হবে। সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক অম্লান কুসুম জিষ্ণু এই আদেশ প্রদান করেন। রায়ে অপর ১ আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের মোজাম আলীর পূত্র বাদশা মিয়া ৬ জুন ২০০৮ সালে তার প্রতিবেশী হেকমত আলীর কিশোরী কন্যাকে বিকেল ৪টার দিকে জোড়পূর্বক অপহরণ করে। এসময় মেয়েটি বাড়ী থেকে তিনশ গজ দূরে ছাগল আনতে গেলে আসামী বাদশা মিয়া চুপিসারে মেয়েটির পিছনে গিয়ে তাকে জাপটে ধরে তার মুখে গামছা বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। পরে সহযোগী আনোয়ারুল হকের রিক্সায় মেয়েটিকে হত্যার ভয় দেখিয়ে রিক্সার চারদিকে চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে তাকে আড়াল করে জোর করে ২০ কিলোমিটার দূরে একই উপজেলার উত্তর ঢলডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত খালাত ভাই হাফিজুর রহমানের বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে মেয়েটিকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে রাতভর জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরদিন মেয়েটির ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিসিং কমিটিকে জানায়। পরে বাদশা মিয়া কিশোরীটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। 

সেখানে ন্যায় বিচার না পাওয়ার শর্তে মেয়েকে থানা থেকে উদ্ধার করে বাদী হেকমত আলী ১২ জুন ২০০৮ সালে আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মেডিকেল সার্টিফিকেট, চার্জশীট এবং সাক্ষি-প্রমাণের ভিত্তিতে দীর্ঘ শুনানীর পর সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক অম্লান কুসুম জিষ্ণু আসামী বাদশা মিয়াকে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দন্ড আইন (সং/৩) এর ৭ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাস সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। একই সাথে আসামীকে ৯(১) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৫ মাস কারাদন্ড প্রদান করেন। ঊভয় দন্ডাদেশ একই সঙ্গে কার্যকর হবে। অপর আসামী আনোয়ারুল হকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বে-কসুর খালাশ প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক এবং আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম।

পাঠকের মন্তব্য