দেশের বড় ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ টাকার সঙ্কট

দেশের বড় ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ টাকার সঙ্কট

দেশের বড় ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ টাকার সঙ্কট

দেশের বড় ব্যাংকগুলোতে এখন নগদ টাকার সঙ্কট। নিয়ম মানতে গিয়ে ছোট ব্যাংকগুলোও ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। একদিকে কম সুদে আমানত আসছে না, অন্যদিকে ঋণ আদায়ও বাড়ানো যাচ্ছে না। যে কারণে প্রকট হয়েছে ব্যাংক খাতের তারল্যসংকট। যার ফলে কমে গেছে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল।

এমন পরিস্থিতিতে মুদ্রাবাজার থেকে ধার করার প্রবণতাও বেড়েছে ব্যাংকগুলোর। এতে বাড়ছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে সুদের হার। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২টি ব্যাংকের বিনিয়োগ করার মতো তহবিল আছে। বাকি ব্যাংকগুলো টাকা ধার করে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাচ্ছে। দাবি ব্যাংকের এমডিদের।

জানা যায়, ঋণখেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে নিরাপদে থাকতে আগে তিন মাসের মাথায় এক ধরনের ব্যবসায়ী ঋণ পরিশোধ করতেন। কিন্তু এখন খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা পরিবর্তন হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সময় পাচ্ছেন ৯ মাস। অর্থাৎ এখন ৯ মাস পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করেও খেলাপি মুক্ত থাকতে পারছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে যারা আগে তিন মাসের শেষ সময়ে ঋণ পরিশোধ করতেন এখন তারা ৯ মাসের মাথায় এসে ঋণ পরিশোধ করছেন। এতে ব্যাংকে নগদ টাকার প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের নানা সুযোগ দেয়ার ঘোষণায় ঋণ পরিশোধে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন কিছু উদ্যোক্তা। যারা এতোদিন নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতেন তাদের অনেকেই হঠাৎ করে ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছেন। সবমিলে ব্যাংকে নগদ আদায়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যাংকের নগদ আদায় কমে যাওয়ায় মহাবিপাকে পড়েছে কিছু ব্যাংক। যারা অবশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (ওবিইউ) বৈদেশিক মুদ্রায় বেশি বিনিয়োগ করেছেন ওই সব ব্যাংক মেয়াদ শেষে বৈদেশিক মুদ্রায় দায় পরিশোধ করতে বেকায়দায় পড়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে এখন দুঃসময় যাচ্ছে। ধীরে ধীরে তা আরও দুরবস্থার দিকে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও দেশের অন্যান্য খাতের তুলনায় ব্যাংক খাত ছিল অপেক্ষাকৃত সুশৃঙ্খল। কিন্তু এই খাতে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাংক খাত চাপের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাবে দেখা গেছে, গত এক বছরে আমানত ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ বাড়লেও একই সময়ে ঋণ বেড়েছে ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

জানা গেছে, প্রায় সব ব্যাংকই আমানতের সুদহার বাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, যেসব ব্যাংক দুই বছর আগে সাধারণ মানুষের আমানত রাখতে আগ্রহী ছিলো না তারাই এখন হন্যে হয়ে আমানত খুঁজছে। এমনকি অর্থের পরিমাণ বেশি হলে সাড়ে ১০ শতাংশ সুদও দিতে রাজি হচ্ছে কিছু ব্যাংক। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে রয়েছে।

জানা গেছে, সোনালী, জনতা, এমনকি বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক বলে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকও গ্রাহকদের ঋণ দেয়া কমিয়ে দিয়েছে। এক সময় এই ব্যাংকটি দেশের বিপদে পড়া ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংককে আর্থিকভাবে সহায়তা করতো। এখন সেই ব্যাংক নিজেই নগদ টাকার সঙ্কটে পড়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, গত বছর দেশের এসএমই খাতে ব্যাংক ঋণ কমেছে ৭ শতাংশ। ২০১৭ সালে দেশের এসএমই খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিলো ২ লাখ ২ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৫ কোটি টাকায়, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এসএমই খাতে ঋণ কমেছে ১৪ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা।

পাঠকের মন্তব্য