ধর্মের ভয় - ভূয়া ?

ধর্মের ভয় - ভূয়া ?

ধর্মের ভয় - ভূয়া ?

দেলোয়ার হোসাইন : শিশু কালে আমরা যখন হুজুরের কাছে আরবি পড়তাম বা কোরান শিখতাম, তখন কোরান ও কায়দা শরিফকে ওজু করে মনে ভয় নিয়ে স্পর্শ করতাম যেন শরীর- মনের অপবিত্রতা তাকে স্পর্শ না করে । আবার পড়া শেষে খুব যত্ন করে লাল কাপড়ে মুড়িয়ে তাকে যথাস্থানে রেখে দিতাম । আমাদের এভাবেই শিক্ষা দেয়া হয়েছিল ।

তখন বা ঐ সময়কালে অপবিত্র হাতের ছোঁয়া না পড়ার ভয়ে মানুষ শিকেয় তুলে রাখতো কোরান শরিফ । কিন্তু এখন এর প্রতি মানুষের তেমন যত্ন, ভীতি ও ভক্তি তেমন আর দেখি না । এসব এখন স্মৃতি ।

অপবিত্র হাতে পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ স্পর্শ করলে পাপ হয় । ভুল করেও এর অবমাননা হলে কঠিণ প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। তাছাড়া মিথ্যা বলা মহাপাপ এমন সতর্ক বাণী ঘরে - বাইরে সবখানেই চর্চা হতো । তাই শিশু মনে পাপচিন্তা স্পর্শ কাতর হয়ে উঠেছিল ।

শুনতাম - কোন কাজে স্বর্গ , কোন কাজে নরক । কোন কাজে সর্বাধিক সওয়াব , কোন কাজে কবিরা-সগিরা গুনাহ, ইত্যাদি , ইত্যাদি ।

সমাজে দাঁড়ি - টুপি, আলখেল্লাধারী ধার্মিক ব্যক্তি, হুজুর, মোল্লা বা আলেমরা ছিলেন সর্বত্রই পরম শ্রদ্ধেয়, সমাদৃত ও পূজনীয় । এদেরকে ভাবা হতো ন্যয় ও সততার প্রতীক । এরা যা বলতেন মানুষ তা বেদ বাক্যের মত মনে করে সর্বান্তকরণে তার নেক আমল করতেন । কোন ক্ষেত্রেই তার বাত্যয় ঘটতে দেখিনি । ধর্মের প্রতি পরম ভক্তি, অন্ধ বিশ্বাস ছিল প্রশ্নাতীত বিষয় ।

তাই পরম বিশ্বাস মতই সমাজে ধর্ম ভীরুতা ছিল একটি দুর্দমনীয় মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি । ধরমাচার বিরোধী আচরন বা পাপ করলেই প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে । যদিও এই পাপ-প্রায়শ্চিত্তের কোন নজির ছিল না কিন্তু মানুষ সমাজে সংঘটিত কিছু মানুষের নানা রকম দুর্দশা দেখিয়ে বলতো - দেখছো না, এটা হলো ওর পাপের ফল । ওই ব্যাটা নাস্তিক । ওই ব্যাটা কাফের । ব্যাস ওই পর্যন্তই । মানুষ তা দেখেই তার অন্ধ বিশ্বাসের আরো গভীরে ডুবেছে ।

কিন্তু সেই সময় এখন পাল্টেছে । লেবাসধারীদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে । এই লেবাস ধারী ধর্ম ব্যবসায়ীরা কেউ পীর, বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী, কেউ আল্লা-খোদার দোস্ত এবং আরো কত কী ... । এরা যা বলে লক্ষ- কোটি লেবাসধারী ধার্মিকেরা আগ্রহভরে মনোযোগ দিয়ে শোনেন ।

এদের তেলেসমাতির নজিরও কেউ দেখে না । তেলেসমাতি শুধু বয়ানে এবং মূর্খ বান্ধব বাক পটুতায় । তবে কেউ দেখুক আর না দেখুক, বিশ্বাসীরা ভূত না দেখেও ভূত আছে বলে বিশ্বাস করেন । তাই ইহকাল পরকালের ওপরও বিশ্বাস হারিয়ে পাপ করতে চান না তারা। তাই তারা নিজের অন্ধকার গুহাতেই অধিক নিরাপদ ।

তবে ধর্ম ব্যবসায়ীরা ভাল করেই জানেন, বেকুব পটানোর ও ধরাশায়ী করার কৌশল । তারা ভাল করেই জানেন পাপ প্রায়শ্চিত্তের মনগড়া কল্পকাহিনী । তাই সময় পাল্টানোর সাথে সাথে লেবাসধারীদের স্বরূপও পাল্টেছে । ধোকাবাজি করে বেশিদিন টেকা যায় না । এটাও তারা বুঝেছে । মানুষ আর বেকুব হয়ে থাকতে চায় না । ধর্ম রোগের বড়ি এখন সবাই গিলতে চায় না । মানুষ সচেতন ।

তাই লেবাসধারীরা ছেড়ে দে মা , লুটে-পুটে খাই সময়ের স্রোতে যোগ দিয়ে সমাজের হেন অপকর্ম নেই যা করতে তারা বিরত রয়েছেন । কোরান -হাদিসেই যেসব গর্হিত পাপাচার বর্ণিত থাকার কথা এই হুজুরেরা আমাদেরকে শুনিয়ে আসছে্ন তার প্রত্যেকটিতেই আজ তারা লিপ্ত হয়ে পড়েছেন । যা সভ্য সমাজের কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে করা স্বপ্নাতীত ব্যাপার ।

নারী, শিশু ধর্ষণ , সমকামীতা, পরকীয়া, হত্যা- খুন , মাদক ব্যবসা, নারী পাচার, পতিতা ব্যবসা, মাদক ব্যবসায় কোরান ব্যবহার, কোরানের অবমাননা সহ যত রকম নারকীয় অপকর্ম আছে, তার সাথে এই হুজুরেরা আজ সমাজের আর দশটা দাগী অপরাধীর মত জড়িয়ে পড়েছে ।

তারা তো ভাল করেই জানেন, এই সব অপরাধ সম্পর্কে ধর্মে কী বলা আছে, যা তারা নিজেরাই প্রচার করে বেড়ান । তাহলে জেনে-বুঝে সেই অপরাধের সাথে কেন জড়ানো ? যদি পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের ভয় নাই থাকে, তাহলে পাপ- প্রায়শ্চিত্তের ভয় দেখানো জুজু বুড়ির গল্প বলা ধর্ম শাস্ত্রের সবই মিথ্যা ! সবই ভূয়া !

কেউ কেউ বলবেন এর জন্যে গোটা হুজুর সম্প্রদায়কে কেন আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করানো ? জবাব হলো এরা কেবল লেবাসধারী অপভ্রংশ নয় । এরা মুল স্রোতেরই একটি অত্যান্ত সচেতন, ক্ষমতাধর, প্রভাবশালী মোল্লা সম্প্রদায়ের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও সমাদৃত অংশ । এরা শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এরা ইমাম, এরা মৌ লোভী এবং ... । এদের অপকর্মের বিরুদ্ধে মূল স্রোতধারার অংশ কখনই কোন প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় না । বরং এদেরকে রক্ষার জন্যে ওরা ঢাল হয়ে এগিয়ে আসে । তার প্রমাণ আমরা নুসরাত হত্যাকান্ডেই দেখতে পাই ,

এই লেবাসধারী হুজুররাই প্রকাশ্যে কোরান পোড়ায় ( মনে করুন , হেফাজত ও জামাত-শিবিরের তান্ডব), কোরান হাতে নিয়ে মিথ্যা কথা বলে । কোরানের ভেতর ইয়াবা ঢূকিয়ে পাচার করে । ভয়ংকর পাপ ও শাস্তির কথা মনে করে এমন অপকর্মের বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে কল্পনারও বাইরে ছিল আগে ।

মানুষ এখন দেখছে , এসব করলেও কিছু হয় না । যা হুজুরেরা নিত্যই করে চলছে । তাহলে কী বুঝতে হবে যে- এসব অপকর্ম করা কোন পাপ-প্রায়শ্চিত্তের বিষয়ই নয় ? মানুষকে ধর্মের ভয় দেখিয়ে ব্যবসা করা, ফায়দা লোটাই মূখ্য ?

স্টকহোল্ম, ২০১৯,০৫,১৫

দেলোয়ার হোসাইন : ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক 

পাঠকের মন্তব্য