গাজীপুরের র‌্যাবের হাতে হিজবুত তাহরীরের সক্রিয় সদস্য আটক ২ 

গাজীপুরের র‌্যাবের হাতে হিজবুত তাহরীরের সক্রিয় সদস্য আটক ২ 

গাজীপুরের র‌্যাবের হাতে হিজবুত তাহরীরের সক্রিয় সদস্য আটক ২ 

মাহবুবুল আলম,গাজীপুর : র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস কাজ করে আসছে। সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টি করার সক্ষমতা না থাকলেও, সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। তবে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। 

গত ১৪ মে ২০১৯ ইং তারিখ সারে পাঁচটার দিগে র‌্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানী, পোড়াবাড়ী ক্যাম্প, গাজীপুর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, বাংলাদেশ সরকার কর্র্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংঘঠন ‘‘হিজবুত তাহরীরের বেশ কিছু সংখ্যক সক্রিয় সদস্য গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন সাটিয়াবাড়ি গ্রামস্থ মোল্লাবাড়ি রোডের দেলুয়ারের বাড়িতে হামিদ সিরাজীর ভাড়াকৃত বাসায় একত্রিত হইয়া দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ও নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে গোপন মিটিং করিতেছে। 

এই মূহুর্তে তাহাদের গ্রেফতার না করিলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রহিয়াছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অধিনায়ক, র‌্যাব-১ লেঃ কর্ণেল মোঃ সারওয়ার-বিন-কাশেম, বিপিএম, পিএসসি, এসি এর নির্দেশনায় অত্র কোম্পানীর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, (জি), বিএন এর নেতৃত্বে আভিযানিক দলটি বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সরকার কর্র্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংঘঠন ‘‘হিজবুত তাহরীরের বাংলাদেশ’’ এর সক্রিয় সদস্য আসামী ১। মোঃ হামিদ সিরাজী(৩৩), পিতা- মোঃ সুরুজ্জামান শেখ, মাতা-মৃত হাসনা খাতুন, সাং-বহুলী, থানা- সিরাজগঞ্জ সদর, জেলা-সিরাজগঞ্জ, বর্তমান ঠিকানা- সাং- সাটিয়া বাড়ী, মোল্লাবাড়ি রোড, দেলুয়ারের বাড়ির ভাড়াটিয়া, রাজেন্দ্রপুর, থানা- শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুরকে গ্রেফতার করে। 

এসময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ হামিদ সিরাজী ৩৩ এর বর্নিত বাসার রুম তল্লাশি করিয়া উক্ত কক্ষে থাকা ০১ টি টেবিলের উপর রক্ষিত উগ্রবাদী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করনের ২৩ টি বই, ০১ টি নোটবুক, ০১ টি ডঅখঞঙঘ ব্রান্ডের মোবাইল ফোন, এবং ০৩ টি শার্ট উদ্ধার করা হয়। আসামীর প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত আভিযানিক দলটি সিএমপি, চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন কুঞ্জছায়া এলাকার ০৭ নং রোডের একটি বাসার ৩য় তলায় অভিযান পরিচালনা করিয়া আসামী ২। মোঃ ওসামা ফজলে এলাহী(২৯), পিতা- মৃত আবু হেনা ফজলে এলাহী, মাতা- উম্মে কুলসুম তাহমিনা, সাং- বাসা নং-৩১/এ, ফ্লাট নং এ-১, রোড নং-০৭, ধানমন্ডি-৭, থানা- ধানমন্ডি, ডিএমপি, ঢাকা, বর্তমান ঠিকানা- কুঞ্জছায়া, রোড নং-৭, ১ম বিল্ডিং, ৩য় তলা, থানা- বায়েজিদ বোস্তামী, সিএমপি, চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করে। 

আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, তাহারা ‘‘হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশ’’ এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে স্বীকার করে এবং ২নং আসামী উক্ত সংগঠনের অন্যতম ‘‘থিংক ট্যাঙ্ক’’ ও অর্থদাতা। আসামীদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে ০২ নং আসামী যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাওয়াতী সংগঠন ওঊজঅ এর অনুসরণে গরংংরড়হ ফধধিয ইধহমষধফবংয নামক ফেইসবুক পেইজ খুলে উক্ত পেইজের এ্যাডমিন হিসেবে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদি মতাদর্শের সমর্থনে বিভিন্ন পোস্ট করে। উক্ত পোস্ট লিফলেট আকারে প্রচারের জন্য সে ০১ নং আসামীকে বিকাশের মাধ্যমে ৮০০০/- (আট হাজার) টাকা প্রদান করে। 

ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, তাহারা তাহাদের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত করার জন্য উপরোক্ত বইপুস্তক বিলি বন্টন, প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করিয়া একে অপরকে সাহায্য সহায়তা ও প্ররোচিত করাসহ বিভিন্নভাবে উগ্রবাদী কার্যক্রমকে বেগবান ও অর্থায়ন করিয়া আসিতেছে। ধৃত আসামীদের মধ্যে অনেকই তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। জিজ্ঞাসাবাদে তাহাদের সহযোগী আরো অনেকের নাম প্রকাশ পায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় দেশের জন নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার লক্ষ্যে নাশকতা করিয়া জনগণের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করার জন্য ষড়যন্ত্র করিয়া আসিতেছিল। তাহারা তাহাদের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত করার জন্য উপরোক্ত বইপুস্তক বিলি বন্টন, প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করিয়া একে অপরকে সাহায্য সহায়তা ও প্ররোচিত করাসহ বিভিন্নভাবে জঙ্গি কার্যক্রমকে বেগবান ও অর্থায়ন করিয়া আসিতেছে। 

আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এই সংগঠনের সদস্যরা গোপন বৈঠকের মাধ্যমে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তথ্য আদান প্রদান করে থাকে। ধৃত আসামীদ্বয় ও তাদের পলাতক সহযোগীগন ‘‘হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশ’’ সংগঠন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত জানা সত্ত্বেও তারা এই সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করে এবং এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এইরূপ প্রচার প্রচারণা চালিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল বলে স্বীকার করে। 

ধৃত আসামীদ্বয় তাদের পলাতক সহযোগীদের সহায়তায় নিষিদ্ধ সত্ত্বাকে সমর্থন পূর্বক সদস্যপদ লাভ করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশের শাস্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করাসহ দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার চক্রান্তের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে বলে স্বীকার করে।

পাঠকের মন্তব্য