হলো না, অসহায় ফেরিওয়ালা মালঞ্চ’র মাথা গোঁজার ঠাঁই 

ফেরিওয়ালা মালঞ্চ

ফেরিওয়ালা মালঞ্চ

পিসিমন্ডল, পাইকগাছা : দখল-পাল্টা দখলের ঘটনায় এবারো টিকলো না। অসহায় ফেরিওয়ালা মালঞ্চ’র মাথা গোঁজার ঠাঁই। সর্বশেষ ইউএনও’র অনুমতিতে স্থানীয় ইউএলও-স্থানীয় পুলিশের সহযোগীতায় মঙ্গলবার সকালে কপিলমুনির কপোতাক্ষ তীরের বন্দোবস্ত প্রাপ্ত খাস জমিতে তৃতীয় দফায় ঘর বাঁধতে গিয়েও দখলদারদের বাঁধার মুখে থমকে গেছে।

তবে ঘটনার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আশ্বস্থ করে গেছেন। এর আগে ২০১৮ সালের ১১ মার্চ ভোরে অনুরূপ হামলা চালিয়ে তার বসত-বাড়ি ভাংচুর ও মারপিট করেছিল দখলদাররা।

অভিযোগে কপিলমুনির এনায়েত সরদারের স্ত্রী মালঞ্চ বিবি জানান, ঐঘটনায় চিকিৎসা শেষে তিনি পাইকগাছা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মিস মামলা করেন। যার নং-৪/২০১৮,তাং-২২/৩/১৮। এতে বিজ্ঞ আদালত পাইকগাছা থানাকে এফআইআর মামলা নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ২৮/৩/১৮ তারিখে থানায় ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৩৮০/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪ ধারায় একটি মামলা রেকর্ড করেন। যার নং-২৫,মামলায় আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

এরআগে বন্দোবস্তকৃত জমির দখল বুঝে পেতে মালঞ্চ খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট একটি আবেদন করলে গত ৩০ জানুয়ারী ১৮’ ০৫.৪৪.৪৭০০.০৩১.৩৩.০০১.১৮-১৪৫৫ নং স্মারকে দখল ও সীমানা বুঝে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাইকগাছাকে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সাকিরুল ইসলাম,ইউএলও স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশকে সাথে নিয়ে ঐ এলাকার খাস জমি জরিপপূর্বক নির্ধারণ করে পাকা পিলার দিয়ে লাল পতাকা উঠিয়ে তা সরকারের দখলে নেয়। এরপরও মালঞ্চ তার বন্দোবস্তকৃত জমি বুঝে না পাওয়ায় গত ৫ মে পুনর্দখল বুঝে পেতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করলে ইউএনও ৬ মে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে কপিলমুনি ভূমি অফিসের ইউএলও ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাবুল হোসেনকে বলেন। যার প্রাপ্তি নং-২৯৪।

এর প্রেক্ষিতে সর্বশেষ ১৪ মে সোমবার সকালে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় মালঞ্চ লোকজন নিয়ে চিহ্নিত খাস জমিতে ফের বসত ঘর নির্মাণ করতে গেলে পুনরায় দখলদারদের বাঁধার সম্মুখিন হন। এক পর্যায়ে সেখানে শত শত লোকজন জড়ো হলে খবর পেয়ে খুলনা-৬ এর সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু ও উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় তারা উভয় পক্ষকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনে আশ্বস্থ করলে মালঞ্চ তার দখল প্রক্রিয়া বন্ধ রাখেন।

এর আগে মালঞ্চ পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে মিস কেস এর বিপরীতে নাছিরপুর, রেজাকপুর ও কাশিমনগর মৌজার ৫৯৫,১২৬৭ ও ৩৩ নং দাগের ১ একর সম্পত্তির ১ সনা বন্দোবস্ত প্রাপ্ত হন। যার চেক রসিদ নং-৯২/১২-১৩,মিস কেস ১৪৯৮/১২-১৩,তারিখ ১৮/৪/১৩ ও চেক রসিদ নং-৫৪/১২-১৩,মিস কেস নং-৮৭৬/১২-১৩,তারিখ-১৬/১/১৩।

পাঠকের মন্তব্য