একটাই প্রশ্ন, এবার হাসবে তো বাংলাদেশ ?  

একটাই প্রশ্ন, এবার হাসবে তো বাংলাদেশ ?  

একটাই প্রশ্ন, এবার হাসবে তো বাংলাদেশ ?  

২০০৯ থেকে ২০১৯ - মাঝখানে সময় কেটে গেছে ১০ বছর। এ সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেকদূর এগিয়ে গেছে। তবে এশিয়া কাপের ফাইনালসহ একাধিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ হারের দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের। আর তাই আরও একটি ফাইনাল খেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন বাংলাদেশ তখন তাদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকেশ। আর ক্রিকেট পাগল বাংলাদশি সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন, এবার হাসবে তো বাংলাদেশ?  

শিরোপা জয় করে বাংলাদেশের হাসার সম্ভাবনাই প্রবল! কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দল আছে দুর্দান্ত ফর্মে। ফিল্ডিংয়ে কিছুটা ঘাটতি দেখা গেলেও, ব্যাটে-বলে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। শিরোপা জয়ও বাংলাদেশের জন্য যে এবার খুব কঠিন তাও কিন্তু নয়। কেননা সমীকরণ কথা বলছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দলের পক্ষ নিয়ে।  

সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও বাকি তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ২৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটের বড় জয় পায় সফরকারীরা। এরপরের ম্যাচই বৃষ্টির কারণে ঘোষিত হয় পরিত্যক্ত। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ফের উইন্ডিজদের মোকাবেলা করে মাশরাফীর দল। মাঠে নামার আগে সমীকরণ ছিল এমন, ম্যাচ জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের। সে লক্ষ্যই পূরণ করে দল। ক্যারিবিয়দের দ্বিতীয় দেখায়ও ধরাশায়ী করে টাইগাররা। হারায় ৫ উইকেট। নিশ্চিত করে ফাইনাল। 

এদিকে ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে একাদশে ৪ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাঘেরা। তবে এ ম্যাচেও জয়ের জন্য বেগ পেতে হয়নি সাকিব-তামিমদের। আবু জায়েদ রাহীর স্মরণীয় ৫ উইকেট শিকারের দিনে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের হেসে-খেলে হারায় ৬ উইকেটের ব্যবধানে।  

ম্যালাহাইডে শেষ ৫ ম্যাচে আগে ব্যাটিং করা দলের গড় সংগ্রহ ২৫৯। সবশেষ ১৫ ম্যাচে আগে ব্যাট করা দল জয় পেয়েছে মাত্র ৫টিতে। এদিকে বৃষ্টি হওয়ায় সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। 

পরিসংখ্যান  :  ত্রিদেশীয় বা বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবশেষ শিরোপা জিতেছে ২০০৮ সালে, কানাডাতে। আর আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে ক্যারিবিয়দেরশেষ সাফল্য ২০০৪ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে।     

অপরাজিত থেকেই আজ তাই ফাইনালে উইন্ডিজদের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। তবে টানা জয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকলেও ফাইনালে ক্যারিবিয়দের ছোট করে দেখতে নারাজ বাংলাদেশ দলপতি মাশরাফী। তিনি জানিয়েছেন, সমান সুযোগ রয়েছে দু'দলের সামনেই। প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক জেসন হোল্ডার অবশ্য নিজেদের ভুল শোধরাতে পারলেই শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। 

ওয়ানডে ক্রিকেটে এ পর্যন্ত ৩৫ ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে বাংলাদেশ ও উইন্ডিজ। পরিসংখ্যান ক্যারিবিয়দের পক্ষে কথা বললেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ঢের এগিয়ে টাইগাররা। দুদলের ৩৫ বারের দেখায় উইন্ডিজের ২০ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় ১৩ ম্যাচে। বাকি দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। তবে শেষ ৪ দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশের জয়জয়কার। ক্যারিবিয়দের ১টি সিরিজ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় ৩টিতেই। 

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানেও টাইগারদের অর্জনের ভার বেশি। ব্যাটিং-বোলিং দু'বিভাগের শীর্ষেই রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২৪ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরিসহ ৮৬৭ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। সমান ম্যাচ খেলে ৮৪৩ রান করে পরের দ্বিতীয় স্থানে দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। 

বোলিংয়েও আধিপত্য টাইগার বোলারদের। ১৭ ম্যাচ খেলে ৩০ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি মাশরাফী। এক ম্যাচ বেশি খেলে ক্যারিবিয় পেসার কেমার রোচের ঝুলিতে সমান ৩০ উইকেট থাকলেও তালিকার তৃতীয় স্থানে আরেক বাংলাদেশি আবদুর রাজ্জাক। ১৯ উইকেট রয়েছে এই স্পিনারের ঝুলিতে।

বোলিংয়ের পাশপাশি অধিনায়কত্বেও উইন্ডিজদের বিপক্ষে বেশ সফল মাশরাফী। তার নেতৃত্বে ৮ ম্যাচ খেলে দল জয় পেয়েছে ৬টিতে। 

তবে আজ বিশেষ দৃষ্টি থাকবে সাকিব আল হাসানের উপর। সাইড স্ট্রেনের ইনজুরি কাটিয়ে উঠে সাকিব যদি মাঠে নেমে ১ উইকেট শিকার করতে পারেন তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০০০ রানের পাশাপাশি সর্বদ্রুত ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। আপাতদৃষ্টিতে যদিও সাকিবের খেলার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।  


ত্রিদেশীয় সিরিজ ফাইনাল      
ম্যাচ : বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
সময় : বিকাল ৩.৪৫ মিনিট
সম্প্রচার : গাজী টিভি ও মাছরাঙ্গা টিভি

পাঠকের মন্তব্য