ঝুলে রইলো ছাত্রলীগের সেই বিতর্কিত ৯৯ 

ঝুলে রইলো সেই ছাত্রলীগের বিতর্কিত ৯৯ 

ঝুলে রইলো সেই ছাত্রলীগের বিতর্কিত ৯৯ 

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে জটিলতা কাটেনি। ঘোষণার পর পরই কমিটিতে বিতর্কিত নেতার জায়গা পেয়েছে দাবি করে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পদবঞ্চিতরা। কমিটির বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ওঠতে থাকে একের পর এক অভিযোগ। অবিলম্বে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার দাবি জানায় ছাত্রলীগের একাংশ।

সম্মেলনের ১ বছর পর ঘোষিত ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ৯৯ জনের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ জানায় পদবঞ্চিতরা। কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিতর্কিতদের মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছিল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণে বুধবার রাতে ২৪ ঘণ্টার সময় নিয়েছিল তারা। কিন্তু সময় শেষে আরও ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি সংগঠনটি।

ছাত্রলীগের আন্দোলনরত নেতারা গত বৃহস্পতিবার বিতর্কিত ৯৯ নেতার নাম প্রকাশ করেন। রাতে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে তথ্য-উপাত্তসহ তালিকা জমা দেন। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কথা বলেন। এ সময় নানক তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।এর আগে বুধবার মধ্যরাতে নবগঠিত কমিটির ১৭ বিতর্কিত ও বিভিন্ন অপরাধ-অপকর্মে অভিযুক্তর নাম প্রকাশ করে ছাত্রলীগ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বহিষ্কার করে কমিটিতে বঞ্চিতদের স্থান করে দেয়ার ঘোষণা দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। কিন্তু শুক্রবার পেরিয়ে গেলেও ছাত্রলীগ কিছু জানায়নি।

এদিকে ৯৯ জনের মধ্যে যে ১৭ জনের নাম ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ করেছেন তা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মধ্যে এমন কয়েকজন রয়েছেন যারা সংগঠনের দুঃসময়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, সর্বশেষ কমিটিতে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অপরাধের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম।

‘বিতর্কিতদের’ বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু সেই সময় পার হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, যাদের নাম সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৭ জন ইতিমধ্যে দালিলিক অকাট্য প্রমাণ দিয়েছেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। বাকিরাও বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা এবং তাদের কাছে তার প্রমাণ আছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের সময় নিতে বলেছেন যেন ‘নিরপরাধ’ কারও প্রতি ‘অবিচার’ না হয়।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী এখনো কেউ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দেয়নি। যাঁরা অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছেন; আইনের ছাত্র হিসেবে বলি—অভিযোগ যিনি করেন, অভিযোগকে সত্য প্রমাণ করার দায়িত্বটা তাঁরই। কিন্তু এটি কেউ করেনি।’

তবে পদবঞ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া বিক্ষুব্ধ অংশের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বলেন, ‘অভিযুক্তদের কাছে প্রমাণ থাকলে তা তাঁরা প্রকাশ করুক। সন্ধ্যায় আমরা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে যাব। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলব। ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা পরও কেন তাঁরা পদক্ষেপ নিচ্ছে না, আমরা জানতে চাইব।’

পাঠকের মন্তব্য