মোবাইল ফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ছিনতাইয়ের ফাঁদ 

মোবাইল ফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ছিনতাইয়ের ফাঁদ 

মোবাইল ফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ছিনতাইয়ের ফাঁদ 

চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ও বেচাকেনার সাইটে অল্প দামে মোবাইল ফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতো একটি চক্র। অনেকসময় বর্তমান বাজারমূল্যর অর্ধেক বা তারও কমে দেয়া হতো এসব বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপন দেখে কেউ মোবাইল ফোন কিনতে আগ্রহী হলেই যেতে বলা হতো নির্দিষ্ট কোনো স্থানে। আদতে এর পুরোটাই ছিনতাইকারী চক্রের ফাঁদ।

মোবাইল আনতে গেলেই আগ্রহী ব্যক্তির সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন বা যেকোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়ান আগ্রহী ব্যক্তি। উল্লেখিত স্থানে আগে থেকেই উৎপেতে থাকা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ধারালো অস্ত্রের মুখে কেড়ে নেয় সবকিছু।

শুক্রবার (১৭ মে) দিনগত রাতে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিনব পন্থায় ছিনতাইকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)।

আটক ছয়জন হলেন- শাহিন (২০), শাকিল হাসান (১৯), ফারুক (২০), সালাউদ্দিন আকবর (২০), রহমত উল্লাহ (১৯) ও রাসেল (১৯)। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি সুইচ গিয়ার চাকু, ছয়টি মোবাইল ফোন ও ৮৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন অনলাইন পেইজে স্বল্পমূল্যে মোবাইল ফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিনব পন্থায় ছিনতাই করে আসছিলেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে পণ্য কেনা-বেচার বিভিন্ন অনলাইন পেইজে বাজারের চেয়ে কম দামে মোবাইল ফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতো। বিজ্ঞাপন দেখে সাধারণ মানুষ এই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতেন। আর এ সুযোগে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সুবিধাজনক স্থানে আগ্রহী ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে মোবাইল, টাকা-পয়সা ছিনতাই করে পালিয়ে যেতো।

র‌্যাব-১ এর স্কোয়াড কমান্ডার (সিপিসি-২) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সালাউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, চক্রটির মূলহোতা শাহিন ও শাকিল। শাহিন ছিনতাই কাজের কৌশল হিসেবে প্রাথমিকভাবে অনলাইনে বিক্রয় ডটকম পেইজে বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে মোবাইল ফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতেন। পরবর্তীতে শাকিল পূর্ব নির্ধারিত সুবিধাজনক জায়গায় ভিকটিমদের আসতে বলতেন। ভিকটিম নির্ধারিত স্থানে গেলে মারধর করে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিতেন।

চক্রটি টঙ্গী, আব্দুল্লাহপুর, চৌরাস্তা, বেড়িবাঁধ, আশুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এএসপি সালাউদ্দিন।

পাঠকের মন্তব্য