অবশেষে পুনর্গঠিত হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

অবশেষে পুনর্গঠিত হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

অবশেষে পুনর্গঠিত হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

অবশেষে পুনর্গঠিত হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক তৃতীয়াংশ সদস্যই মৃত্যুবরণ করেছেন। তারপরও স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠিত হয়নি দীর্ঘদিন। পুনর্গঠনের দাবি বিএনপির বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছিলো। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পুত্র তারেক জিয়ার মত পার্থ্যক্যের কারণে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন হয়নি বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এখন বিএনপির পুর্ণ কতৃত্ব তারেক জিয়ার হাতে। তারেক জিয়া এখন স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা শুরু করেছেন বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটি এতটাই অকার্যকর হয়ে গেছে যে, স্থায়ী কমিটির বৈঠক থাকলে নেতাদের পাওয়া যায় না। কোরামের অভাবে স্থায়ী কমিটির নেতাদের পাওয়া যায় না। যে কারণে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী সংস্থাটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল বিএনপির ৫জন সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ার সময় স্থায়ী কমিটির কোন সদস্যই এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন এ ব্যপারে সংবাদ সম্মেলন করতে যান তখনও স্থায়ী কমিটির কোন সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকার জন্য দু-দফা উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরকে পাওয়া যায়নি এবং কোরামের কারণে স্থায়ী কমিটির বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। এখন যারা স্থায়ী কমিটির সদস্য আছেন, তারা অধিকাংশই অকার্যকর এবং তারা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কোন রকম দায়িত্ব পালন করেন না বলেই অভিযোগ রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার (অব: ) হান্নান শাহ. এমকে আনোয়ার মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মৃত্যুজনিত কারণে স্থায়ী কমিটির যে শুন্যতা তৈরী হয় সেই শুন্যস্থান পূরণ করারও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এছাড়াও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ থাকার কারণে প্রায়ই স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। জেনারেল (অব: ) মাহবুবুর রহমান রাজনীতি থেকে একপ্রকার নিজেকে গুটিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত থাকছেন। ফলে স্থায়ী কমিটিতে এখন কার‌্যত কয়েকজন সদস্য ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী , নজরুল ইসলাম খান ও মির্জা আব্বাস। 

এরা ছাড়া স্থায়ী কমিটিতে মৃত্যুজনিত এবং অসুস্থতাজনিত কারণে যারা নেই, তাদেরকে বাদ দিয়ে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ দেওয়া হবে তরুণ এবং কর্মঠ নেতৃবৃন্দদের। স্থায়ী কমিটিতে নারী সদস্যও যুক্ত করা হবে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সাবেক যুবদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চট্টগ্রামের নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ একাধিক নেতার নাম আলোচনায় আসছে। এছাড়াও নারী সদস্য হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য শামা ওবায়েদের নাম আলোচিত হচ্ছে। এছাড়াও স্থায়ী কমিটিতে দলের জন্য অবদান রেখেছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা এরকম দু’তিনজনের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠন কি প্রকিয়ায় হবে এবং কবে নাগাদ হবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। 

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের কাউন্সিল অধিবেশন ছাড়া স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা যায় না। তবে গঠনতন্ত্রের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দলের চেয়ারপার্সন যে কাউকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। কিন্তু বাধা দেখা দিচ্ছে, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলে কোনো পদ নেই। কিন্তু তারেক জিয়া দলের চেয়ারপারসনের ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন এবং ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করতে চাইছেন। গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলে কোনো পদ না থাকায় এটা কতটুকু গঠনতন্ত্রসম্মত হবে এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, তারেক জিয়া গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা করে না। 

এই মুহুর্তে বিএনপিকে এগিয়ে নিতে হলে এবং বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে হলে নীতি নির্ধারণী সংস্থাকে ঠিক করতে হবে। স্থায়ী কমিটি হলো বিএনপি নিউক্লিয়াস। সেই নিউক্লিয়াস যদি অকার্যকর থাকে তাহলে সংগঠন হিসেবে বিএনপির মৃত্যু অনিবার্য। আর তাই স্থায়ী কমিটির পরিবর্তন। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন পাঁচ থেকে সাতজন স্থায়ী কমিটির সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তারেক জিয়া এই নিয়ে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকেই মনে করছেন যে, স্থায়ী কমিটি গঠিত হওয়ার পর বিএনপি হয়তো ঈদের পর থেকে নতুন রকমের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা করার চিন্তাভাবনা করবে।

পাঠকের মন্তব্য