অগ্নিঝুঁকিতে গাজীপুরের দুই শতাধিক পোশাক কারখানা

 পোশাক কারখানা

পোশাক কারখানা

গাজীপুর প্রতিনিধি : সম্প্রতি সারা দেশে কয়েকটি আগুনের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘুরেফিরে আসে নানা প্রসঙ্গ। আমরা কতটা আগুন নির্বাপণে প্রস্তুতি রাখি, আগুনের উৎস কোথায় কিংবা ভবনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বাকি সব কেমন মানের?

এমন অনেক কথা আসে রাজধানীর পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা, বনানীর এফআর টাওয়ার ও গুলশান-১-এ ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায়। নানা প্রতিবেদন বেরোয়। তাতে বলা হয় ভবনগুলোর বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ নানা সরঞ্জামে ত্রুটি থাকার কথা। এ সময় নানা তোড়জোড় দেখান সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর অনেক ভবনে লাগানো হয় অগ্নিঝূঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ডও।

এর মাঝেই এবার রাজধানীর পার্শ্ববর্তী গাজীপুরে দেশের সম্ভাবনাময় পোশাক খাতের দুই শতাধিক কারখানা ও ভবন অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা যায়। রাজধানীর মতো ওখানেও অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড সাঁটিয়েই দায় সারছেন সংশ্লিষ্টরা। মজার কিংবা কষ্টের বিষয়, ভবনগুলোতে অগ্নি প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। সচেতনতামূলক পোস্টার-ব্যানার সাঁটানোর পরও কারো কোনো বিকার নেই। উপরন্তু ভবন কিংবা কারখানাসংশ্লিষ্টরা অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড ছিঁড়ে বা ফেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসবে কোনো সাড়া মিলছে না। এদিকে এতে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ছাড়াও লাখো শ্রমজীবী মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস অবশ্য অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ কারখানা ও ভবনগুলোতে পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়ে দিয়েছেন। অগ্নিঝুঁকি কমাতে এবং ত্রুটিপূর্ণ ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কার্যক্রম চলমান রাখতে তারা তৎপর থাকবে বলেও জানায়।

গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া এলাকার ওয়াসিফ নিট কম্পোজিট লিমিটেড, হাবিবুল্লাহ ভবনের মে ফ্যাশন লিমিটেড, পেয়ারা বাগান এলাকার সাসটেক্স বিডি লিমিটেড, চান্দনা চৌরাস্তার শাপলা ম্যানশন ও রহমান শপিংমলে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অধিকাংশ ব্যানারই খুলে বা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। উল্টো মালিকপক্ষ বলছে, তারা অগ্নিনিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

অথচ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা জানান, অনেক কারখানায় স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। পানির পাম্প, গ্যাস মাস্ক, ডিটেক্টর, আলাদা বহির্গমন পথ, ভবনের ওপরে ও নিচে সংরক্ষিত পানি, ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অনেক প্রতিষ্ঠানেই রাখা হয় না। কোথাও কোথাও লোক দেখানো দু-একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ঝুলানো থাকলেও এসবের বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস বিভাগের উপপরিচালক (ডিএডি) আক্তারুজ্জামান বলেন, অনেক ভবন মালিক আইন মেনে ভবন তৈরি করেননি। যেগুলো অগ্নি আইন না মেনে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো তৈরি করা হয়েছে, বারবার চিঠি দিয়েও তাদের সাড়া পাচ্ছে না ফায়ার সার্ভিস। এই জেলা ও মহানগরের প্রায় ৮০ ভাগ শিল্প-কারখানায় অগ্নিঝুঁকিমুক্ত বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তৈরি করতে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষের কথা শুনছে না ভবন মালিকরা। তিনি জানান, সম্প্রতি পরিদর্শন করে কয়েকটি কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে, সেখানে ঝঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিগগির মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণের পর ফায়ার সার্ভিস থেকে অগ্নিঝুঁকি নেই এমন ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অনেক বহুতল ভবনে নেই ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র। আবার অনেকে ছাড়পত্র নিয়েছে ঠিকই কিন্তু নেই আগুন নেভানোর সরঞ্জাম। ভবন নির্মাণের সময় অনেক ভবন মালিক ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র গ্রহণ করলেও অগ্নিপ্রতিরোধ, নির্বাপণ ও নিরাপত্তায় ভবনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখেননি। এসব কারণে প্রায় প্রতি বছর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে মারা যাচ্ছে শ্রমিক আর পুড়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নিয়মের মধ্যে এনেই সব পোশাক কারখানাগুলোকে নিরাপদ করতে হবে, অগ্নিঝুঁকি মুক্ত করতে হবে।

জেলা ও মহানগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কয়েকটি সূত্র জানায়, বহুতল ভবন নির্মাণের পর ফায়ার সার্ভিস থেকে অগ্নিঝুঁকি নেই এমন ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অনেক বহুতল ভবনে নেই ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র। আবার অনেকে ছাড়পত্র নিয়েছে ঠিকই; কিন্তু নেই আগুন নেভানোর সরঞ্জাম। ভবন নির্মাণের সময় অনেক ভবন মালিক ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র গ্রহণ করলেও অগ্নিপ্রতিরোধ, নির্বাপণ ও নিরাপত্তায় ভবনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখেননি।

পাঠকের মন্তব্য