লোকসভার ভোট শেষ, প্রশ্ন কে হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী 

 লোকসভার ভোট

লোকসভার ভোট

আজ শেষ হয়েছে ভারতের শেষ দফার লোকসভার ভোটগ্রহণ। সাত দফায় অনুষ্ঠিত হলো এই ভোট। এবার ভোট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। ভোট নিয়ে এবার ব্যাপক ভাঙচুরসহ সহিংসতা হয়েছে। তবে, অনেকের কাছেই এখন বড় প্রশ্ন কে হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ কোন দল এবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দেশটিতে।

এটা নিয়ে ব্যাপক ধা-ধা চলছে ২৩ মের আগ পর্যন্ত। আর কোন দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৩ মের ফল প্রকাশের পর।

এবার ভারতের সরকার গঠনে এগিয়ে কংগ্রেস বলেই অনেকেই অনুমান করছেন। এর পেছনে বেশ কিছু ব্যাখ্যাও রয়েছে তাদের কাছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবার নির্বাচনের মাঠে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পেরেছেন সেই দেশের ভোটারদের। ভোটাররা এবার রাহুল গান্ধীর হাতকে শক্ত করে ধরেছে বলেই অনেকেই মনে করছেন। সেই অর্থে এবার ভারতের সরকার গঠন করতে পারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন দল।

তবে, সরকার গঠন করতে হলে এবার রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এর জন্য আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর তৃণমূল কংগ্রেস এবার কংগ্রেসকে সমর্থ দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, কংগ্রেস সরকার গঠন করলে এবং রাহুল প্রধানমন্ত্রী হলে তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ তিনি কংগ্রেসকে সমর্থ দিয়েছেন। তাছাড়াও আজ ভোট চলার সময় মমতা বন্দ্যোপাধায় এবং রাহুল গান্ধী ফোনে কথা বলেছেন। তবে, কি নিয়ে কথা বলেছেন তা জানা যায়নি।

আর আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ইতোমধ্যে কংগ্রেসকে সমর্থ দিয়েছেন। আম আদমি পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট গঠন করে ভোট করার কথা ছিল। কিন্তু ভোটের আগে তা হয়নি। তবে, আম আদমি পার্টির নেতা কেজরিওয়াল ইতোমধ্যে অভিযোগ করেছেন, নরেন্দ্র মোদির লোকেরা তাকে হত্যা করতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার মৃত্যু হলে এর জন্য দায়ি বিজেপি। এতে ধরে নেওয়া যায়, এবারে সরকার গঠনে কংগ্রেসকে সমর্থন দেবে আম আদমি পার্টি।

এই আঞ্চলিক দুই দলের সমর্থনের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দল এবার পুরনো এই কংগ্রেসকেই সমর্থ দিবে বলে মনে করছেন অনেকেই। ফলে ভারতের সরকার গঠনে কংগ্রেসের সহজ হবে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি ম্যাজিক দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন বলেই অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন। তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তিনি ভারতের প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো তুলে ধরে ভারতের জনগণের সমর্থ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু  সেই অর্থে তেমন কিছুই করতে পারেনি। আর নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে  তিনি ভারতে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন। ভারতের একটা গোষ্ঠী এটা সমর্থন করলেও বৃহৎ একটা অংশ মনে করে এটা ভারতের জাতীয়তাবাদের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ভারতের আসামে মুসলমানদের সেই দেশের নাগরিক হিসেবে নিবন্ধিত না করার ওই অঞ্চলে তার বড় ধরনের ভরাডুবি হতে পারে  বলে মনে করছেন অনেকেই।

এতো কিছুর পরও ভারতে উগ্র জাতীয়তা বাদীরা মোদিকে সমর্থ দেবে। ফলে মোদিও সরকার গঠন করতে পারে। তাই ২৩ মে পর্যন্ত অপেক্ষ করতে হচ্ছে কোন দল সরকার গঠন করবে তা জানার জন্যল। তবে, সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো চায় কংগ্রেসের মতো দলই সরকার গঠন করুক।

পাঠকের মন্তব্য