খাটের নিচে ওঁৎ পেতে থেকে মুখ চেপে ছাত্রীকে ধর্ষণ

খাটের নিচে ওঁৎ পেতে থেকে মুখ চেপে ছাত্রীকে ধর্ষণ

খাটের নিচে ওঁৎ পেতে থেকে মুখ চেপে ছাত্রীকে ধর্ষণ

মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ, চিরিরবন্দর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি : দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  ধর্ষণের অভিযোগে চিরিরবন্দর উপজেলার খোচনা গ্রামের খয়ের উদ্দিন শাহ পাড়ার আব্দুল হামিদের ছেলে জাকির হোসেন (২২) ও তার দুই সহযোগিকে আটক করেছে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ। 

অভিযোগ ও থানার এজহার সূত্রে জানা যায়, চিরিরবন্দর উপজেলার খোচনা গ্রামের কবিরাজ পাড়ার একরামুল হকের মেয়ে গত ১৯ মে রাতে প্রতিবেশী দোলনা রায়ের বাড়ি থেকে রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে বাড়িতে আসে। এসময় অভিযোগকারীর বাবা চায়ের দোকানে এবং মা বড় বোনের বাড়িতে থাকায় পুরো বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে জাকির হোসেন খাটের নিচে ওঁৎ পেতে থাকে।

অভিযোগকারী জানায়, আমি রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রতিবেশী দোলনের বাড়ি থেকে নিজের স্বয়ন কক্ষে এসে দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে ঘুমানো চেষ্টা করি। এমন সময় পূর্ব হতে খাটের নিচে ওঁৎ পেতে থাকা একই গ্রামের মো. জাকির হোসেন (২২) খাটের নিচ থেকে বের হয়ে আমার মুখ চিপে ধরে এবং আমার দুই হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। আমাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করার সময় আমি জোরে চিৎকার করতে শুরু করি। আমার চিৎকারে জাকির হোসেন ও তার সহযোগিরা পালিয়ে যেতে চাইলে প্রতিবেশী দোলন রায় (২০), মো. রায়হান কিবরিয়া (৩২) মো. ইয়াকুব আলীসহ আরো কয়েকজন এসে ধর্ষক জাকির হোসেন ও তার সহযোগিদের আটক করে বেঁধে রাখে।’

জাকির হোসেনকে সাহায্যকারী দুজন হলো, খোচনা গ্রামের খয়ের উদ্দিন শাহ পাড়ার মৃত একরামুল হোসেনের ছেলে মো. মামুন হোসেন (১৯) এবং খোচনা গ্রামের বানুপাড়ার মো. মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রাসেল রানা (২০)। 

অভিযোগকারী আরও জানায়, খবর পেয়ে আমার বাবা চায়ের দোকান বন্ধ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিন আলমকে সাথে নিয়ে বাড়িতে আসে। ঘটনার বিস্তারিত বললে আমার বাবা ও ইউপি সদস্য শাহিন আলম চিরিরবন্দর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ধর্ষণকারীদের থানায় নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারেসুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষণের শিকার মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে পড়ে। ১৯ তারিখ রাতে জাকির হোসেন নামের এক বখাটে ঐ মেয়ের ঘরে খাটের নিচে ওঁৎ পেতে থাকে এবং মুখ চেপে ধরে, হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ধর্ষণকারী ও তার সহযোগিদের আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান। 

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে চিরিরবন্দর থানায় ৯ এর ১/১৩ ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। মেয়েটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

পাঠকের মন্তব্য