জনপ্রিয় ফল তরমুজের খাদ্য গুণ

জনপ্রিয় ফল তরমুজের খাদ্য গুণ

জনপ্রিয় ফল তরমুজের খাদ্য গুণ

পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল, পাইকগাছা : গ্রীষ্মকালের স্বল্পসময়ের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল তরমুজ। গুণে মানে তরমুজ সবার প্রিয়।শীতে বীজ বপন করা হলে গ্রীষ্মে ফল পাকে এবং খাওয়ার উপযোগী হয়। আফ্রিকার তাগালগে সর্বপ্রথম  এই ফল আবিষ্কৃত হয়। সেখানে এ ফল  Pakwan নামে পরিচিত। এর আরেক নাম কালিঙ্গ। সাধারণত মরুরর দেশে এই ফল বেশি খাওয়া হয়। সেখানে এর শাঁস দিয়ে আচার তৈরি হয়। 

১৯৮২-৮৩ সালে আফ্রিকায় প্রায় ১৫৪১০ হেক্টর জমিতে তরমুজেরর চাষ করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ১৯৮৩-৮৪সালে উৎপাদন কমে। তখন যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকার তরমুজ এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে, উৎপাদিত সব তরমুজ আমদানির ঘোষনা দেয়। তরমুজ বহুজাতের হয়। তবে বাংলাদেশে মাত্র দু-তিন জাতের তরমুজ  উৎপাদন করা হয়। আক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তরমুজের বীজ রোপন করা হয়।তবে গ্রীষ্মের। তরমুজ বহুজাতের হয়। তবে বাংলাদেশে মাত্র দু-তিন জাতের তরমুজ  উৎপাদন করা হয়। আক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তরমুজের বীজ রোপন করা হয়।তবে গ্রীষ্মের। তরমুজ বহুজাতের হয়। তবে বাংলাদেশে মাত্র দু-তিন জাতের তরমুজ  উৎপাদন করা হয়। আক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তরমুজের বীজ রোপন করা হয়।তবে গ্রীষ্মের। তরমুজ বহুজাতের হয়। তবে বাংলাদেশে মাত্র দু-তিন জাতের তরমুজ  উৎপাদন করা হয়। 

আক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তরমুজের বীজ রোপন করা হয়।তবে গ্রীষ্মের। তরমুজ বহুজাতের হয়। তবে বাংলাদেশে মাত্র দু-তিন জাতের তরমুজ  উৎপাদন করা হয়। আক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তরমুজের বীজ রোপন করা হয়।তবে গ্রীষ্মের চাহিদা অনুযায়ী এবং ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগস্টের প্রথম দিকেও বীজ বপন করা হয়।তরমুজের চাষ কিছুটা সহজ। মাদা করে বীজ বপন করে চারা বের হওয়ার সাথে সাথে সার ও নিয়মিত পানি সেচ দিলেই হয়। দো-আঁশ মাটিতে তরমুজ ভালো হয়।

খাওয়ার উপযোগী পাকা তরমুজের ভেতর লাল টকটকে হয় এবং বিচিগুলো হয় গাঢ় কালো। তরমুজ আমাদের শরীরে পানি সরবরাহ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজের পুষ্টির পরিমানে নিম্মরূপ : প্রোটিন ০.২ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১১ মিগ্রা, শর্করা  ১০.৩ মিগ্রা, ফসফরাস  ১২ মিগ্রা, লৌহ ৭.৯ মিগ্রা, ভিটামিন বি ১২ মিগ্রা, জলীয় ৯৭%, খাদ্য শক্তি ১৬ কিলোক্যালরি।

তরমুজের অনেক ভেষজ গুণ 

 ১) ক্লান্তি দূরীকরণে : গ্রীষ্মে মানুষ সহচর ক্লান্ত হয় এবং শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বেরিয়ে যায় বলে ক্লান্তি আসে।সৃষ্টিকর্তা এই ক্লান্তি দূরীকরণে তরমুজ দিয়েছেন।ক্লান্তির পর তরমুজের শাঁস বা শরবত খেলে ৫-৬ মিনিটেররর মধ্যেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।তবে কমপক্ষে এক বা দুই গ্লাস শরবর খেতে জবে।
২) হৃদরোগ ও পিপাসায় : পাকা তরমুজের  রস আধা কাপ নিয়ে তার সঙ্গে ২ বা ৩টি জিরেরর গুঢ়াে ও একটু চিনি মিশিয়ে খেলে হৃদরোগ ও পিপাসায় বেশ উপকার হয়।
৩) টাইফয়েড জ্বরে : আধপাকা তরমুজের রস ২ চা চামচ পরিমানে প্রত্যহ  ৩ বা ৪ বার খাওয়ালে জ্বর নেমেছ আসে।
৪) প্রসাব কম হলে বা জ্বালাপোড়া হলে : তরমুজের  খোসা ছাড়ানো বীজ ৫-৬ গ্রাম নিয়ে বেটে, ঠান্ডা জলে গুলে তাকে একটু চিনি মিশিয়ে খেলে প্রসাব  স্বাভাবিক হবে এবং জ্বালাপোড়া বন্ধ হবে।
৫)  অপুষ্টিতে : কাঁচা তরমুজের শাঁস কুচি কুচি করে কেটে রোদে শুকিয়ে নিয়ে গুড়ো করে নিতে হবে।এরপর এক কাপ গরম দুধে দুই চামচ তরমুজের  গুড়ো মিশিয়ে সকাল ও বিকালে খেলে অপুষ্টি জনিত দুর্বলতা
কাটবে।

যুক্তরাষ্ট্রেরর ফ্লোরিডায় গবেষকরা গবেষণায় দেখেছেন,তরমুজ নিয়মিত খেলে হার্টের সুরক্ষা হয়।রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে।শরীর জুড়ো রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়।হৃদরোগীরা নিয়মিত তরমুজ  খেলে হৃদরোগ ভালো হ্রাস পায়। উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়।কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান হয়। ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। শরীর ঠান্ডা থাকে। হজমশক্তি বাড়ে।  সুনিদ্রা হয়। যারা মোটাসোটা তাদের ওজন কমে। রোদে ঘুরে সানস্ট্রোক হলে বা জ্বর এলে তরমুজের  শরবত খেলে দ্রুত কাজ দেয়। তবে এই ফলটি আমাদের দেশে স্বল্প সময়ের  জন্য পাওয়া গেলেও বিশেষ পরিচর্যায় সারা বছর চাষ করা সম্ভব।

পাঠকের মন্তব্য