বন্ধু, এখনো কি সময় আসেনি নিজেকে নিয়ে ভাবার ? 

আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

ধরুন, আমি আপনার গায়ে সূচ দিয়ে একটা খোঁচা দিলাম। সাথে সাথে 'উহঃ' শব্দ করে ব্যাথার প্রকাশ ঘটাবেন। আপনি তখন জানতে চাইবেন, আমি কি কারণে আপনাকে সূচ ফুটালাম ?

আমি বলতে শুরু করলাম, 'দেখুন সুচ যখন আপনার চামড়া ভেদ করে ঢুকে গেলো এবং টিসু ড্যামেজ করে দিলো তখন চামড়ার নিচে ওঁৎ পেতে থাকা মাথা ও মেরুদণ্ড থেকে আসা বিভিন্ন ধরণের নার্ভ ফাইবার ও নিউরোনাল এক্সনের রিসেপ্টর সাথে সাথে এই সুচ ফুটানোর কথা তার সাথে লাগোয়া নিউরোনকে জানিয়ে দিলো, সে আবার পরের নিউরনকে, এভাবে মস্তিষ্কে খবরটি পৌছিয়ে গেলো যে আপনার শরীরে কেউ একজন বাইরের পরিবেশ থেকে 'স্টিমুলাস' সেন্ড করেছে। নিউরোন কিন্তু সুচ চিনেনা, সে এটাকে স্টিমুলি মনে করে। ব্রেন তখন খোঁজ খবর নেয়া শুরু করবে, স্টিমুলিটা কি তীব্র নাকি মিডিয়াম, নাকি ইগনোর করে দেয়ার মতো। ব্রেন ডিসিশন নিবে সুচ ফুটানোর পর কি করতে হবে, ব্যথায় কাতরাতে হবে নাকি ইগনোর করতে হবে নাকি হাত দিয়ে একটু আদর করে দিলেই চলবে।'

আপনি হয়তো এতক্ষন ধরে আমার দেয়া এই যৌক্তিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিলেন এবং এই ফাঁকে আমি যে আপনাকে সুচ ফুটিয়েছি এই ব্যথাও ভুলে গেছেন আর অভিযোগ করার তো প্রশ্নই আসেনা ।

এখন দেখুন আমি আপনাকে 'কেনো' সুচ ফুটিয়েছি এই ব্যাখ্যা/কৈফিয়ত কিন্তু আপনাকে দেইনি, আমি ব্যাখ্যা দিয়েছি সুচ ফুটানোর পরে আপনার ব্যাথা পাওয়ার প্রসেস, কিভাবে ব্যাথা পেলেন তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যা শুনে আপনি আপনার মূল প্রশ্নই ভুলে গেছেন।

এতকথা বলার উদ্দেশ্য হলো, চোখ কপালে তুলে দেয়া বিভিন্ন ধরণের বৈজ্ঞানিক টার্মিনোলোজি আর ব্যাখ্যা শুনে আমরা আসল প্রশ্ন ভুলে যাই। 'বিগব্যাং' এর জটিল তত্ত্ব শুনে আমরা বাহবা দেই যাক বাবা শেষপর্যন্ত এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হওয়ার মেকানিজমটা জানা গেলো। সেল বায়োলজি পড়ে তৃপ্তির শ্বাস ফেলি 'ওহ যাক এতদিনে কিভাবে একটা কোষ থেকে আরেকটা কোষ বা মানুষ ছোট থেকে কিভাবে বড় হয় তা জানতে পারলাম'। 'জিন এক্সপ্রেশন' নামক জটিল মলিকুলার মেকানিজম না পড়লে তো জানতেই পারতামনা জীবের জিনগুলো কিভাবে কাজ করে।

'বিগব্যাং', 'সেল বায়োলজি' 'জিন এক্সপ্রেশন' এসব ভারী ভারী বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব মূলপ্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে না। কেনো এই পৃথিবীতে আসলাম? কেনইবা আবার চলে যাবো? কেনইবা এতো বড় মহাবিশ্ব তৈরী করা হলো? কেনইবা মানুষ প্রজাতি বাকি সব প্রজাতি থেকে আলাদা? শুধু তাইনা, এসব তাত্বিক কথা বার্তা ও ব্যাখ্যা মূলপ্রশ্ন থেকে আপনার ফোকাস সরিয়ে দেয়, অনেক সময় মূলপ্রশ্নকে আপনার সামনে অনর্থক ও অগুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দাঁড় করায়। যারা আপনার মঙ্গল চায়, তারা যখন আপনাকে এই প্রশ্নগুলো, কৈফিয়তগুলো মনে করিয়ে দেয় তখন তাদের প্রতি আপনার বিদ্বেষ জন্মায়, তাদের জ্ঞান নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন।

বন্ধু, এখনো কি সময় আসেনি নিজেকে নিয়ে ভাবার, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবার? চোখ বন্ধ করে, শান্ত মেজাজে ভাবুন.........

fb.com/abdulhimd.saifullah 
ধন্যবাদ সাইফুর রহমান ভাই অনুপ্রেরনা দেয়ারজন্য।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

পাঠকের মন্তব্য