শিশুদের সাজগোজের দিকে আকর্ষণ কি স্বাভাবিক ?

শিশুরা অনুকরণ

শিশুরা অনুকরণ

জ্বী হ্যাঁ, শিশুদের makeup করার অর্থাৎ লিপস্টিক কিংবা আই শ্যাডো লাগানোর যে প্রবণতা দেখা যায় তা খুবই স্বাভাবিক। শুধুমাত্র মেয়েশিশুরাই না ছেলে শিশুদের মধ্যেও এই প্রবনতা দেখা যায়। আমরা জানি, শিশুরা অনুকরণ করতে খুব ভালবাসে। এটি হল অনুকরণের ফল।

অনেক শিশু আছে যারা বড়দের কাপড় পড়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে অনুকরণ করে। কখনো তাদের মা সাজে, কখনো বাবা আবার কখনো বড় ভাইবোন বা দাদা-দাদি,নানা-নানি। এভাবেই অনুকরণের মাধ্যমে তারা নিজেদের একটা অনন্য পরিচয় গড়ে তুলে।

আপনার শিশু ছেলে হোক কিংবা মেয়ে তার সাজগোজের জিনিস নিয়ে খেলার অভ্যাসটিকে আপনি অন্য অভ্যাসগুলোর মতই দেখুন। তাদেরকে জোড় করে মানা করলে তারা আরও বেশি করে করতে চাইবে। সে যখন আপনার মেকআপের জিনিস দিয়ে খেলবে তখন অবশ্যই তার সাথে থাকবেন। কারণ এগুলিতে অনেক ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে। যা শিশুরা না বুঝে লাগিয়ে ফেললে অনেক সমস্যা হতে পারে। যেমন- তাকে কখনই চোখে কাজল কিংবা মুখে ফেস পাউডার লাগাতে দিবেন না। কাজলে বিষাক্ত পদার্থ থাকে যা শিশুর চোখের জন্যে খুবই ক্ষতিকর। আর পাউডার যদি তার নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে চলে যায় তাহলে শ্বাসকষ্টের মত ভয়াবহ সমস্যাও হতে পারে।

কিন্তু হ্যাঁ, আপনি তাদেরকে বাঁধা দিতে পারেন যে, সে বাসায় আপনার মেকআপের জিনিস দিয়ে খেলতে পারবে কিন্তু এটি শুধু খেলা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। সে স্কুল কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময় ব্যবহার করতে পারবে না। ৩-৮ বছরের শিশু যদি সব জায়গায়ই অতিরিক্ত সাজগোজ করে যেতে চায় তবে রাগারাগি করবেন না। কোন দাওয়াতে গেলেও তাকে বুঝিয়ে বলুন যে তাকে তার বয়সের মত থাকলেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগবে। 

সব বয়সেরই একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। খুব বেশি সাজগোজ করলেই সুন্দর বা আকর্ষণীয় হওয়া যায় না। তাই তাকে ব্যক্তিত্ব সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলুন। তাকে এভাবে বলতে পারেন, “মানুষের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই সবক্ষেত্রে প্রশংসনীয় হওয়া উচিৎ। যে দেখতে যেমনই হোক না কেন। তুমি ভালো ব্যবহার ও চরিত্রের অধিকারী হতে পারলে এমনি সুন্দর হতে পারবে। এতো প্রসাধন লাগবে না।”

পাঠকের মন্তব্য