ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষক : পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষক : পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষক : পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের দুর্নীতি ও অদূরদর্শিতার কারণে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষি আজ ধ্বংসের মুখে। বারবার গরিব কৃষক তাঁর উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এর সুদূরপ্রসারী পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।

আজ (শনিবার) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্যের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

এ সময় বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য তাঁদের ধান কেনার অনুমতি দিয়ে সরকার কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।

তবে, সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি জানিয়েছেন, কৃষকদের উন্নয়নে সরকার সব ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে চাঁদপুর সদরে ঘূর্ণিঝড় 'ফণী'তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি বলেন, 'কৃষকরা উন্নত প্রযুক্তি, সার ব্যবহার করে কাজ করছেন বলেই আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সে কারণেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার জন্য সব সময় সচেষ্ট।'

এদিকে, মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। কিন্তু কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। ওদিকে, সরকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করে কৃষকদের ক্ষোভকে সাবোটাস বলে মন্তব্য করেছে।

মির্জা ফখরুল সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কেনা, প্রান্তিক চাষি ও খেতমজুরদের জন্য বিশেষ সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ধান–চাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে অসৎ কর্মকর্তাদের জড়িত না করা এবং অসৎ কর্মকর্তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করারও দাবি জানান

এ সময় মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, চাল আমদানির ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাত্রা এতই ব্যাপকতা লাভ করেছে যে, সরকারের অংশীদার সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও চাল আমদানিতে সরকারের দুর্নীতির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া সরকারি দলের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনও এই পরিস্থিতির জন্য এ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে দায়ী করেছেন।

বিএনপি’র এ নেতা মনে করেন, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি কৃষি খাতকে একটি আধুনিক ও টেকসই খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য আজ বড়ই প্রয়োজন সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি সরকার। এ জন্য একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে খুব দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের প্রতিধিত্বশীল সরকার গঠনের দাবী পুনর্ব্যক্ত করেন। 

এর আগে গতকাল সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ চট্টগ্রামের এক ইফতার মাহফিলে বলেছেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। তাদের সময়ে কৃষকরা সারের দাবিতে আন্দোলন করলে গুলি করে ১৮ জন কৃষককে হত্যা করেছিল। যারা কৃষকদের গুলি করে মারে, সার বীজ দিতে পারে না তাদের কৃষি এবং কৃষকদের নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর ১৯৯৯ সালে খাদ্য ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এসে লুটপাটের কারণে দেশে আবারও খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।

পাঠকের মন্তব্য