এখন আর স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয় বাংলাদেশ : ফখরুল

বাংলাদেশ এখন আর স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়

বাংলাদেশ এখন আর স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ এখন আর স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণভাবে পরনির্ভরশীল, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের কবলে পড়ে একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।  

আজ (সোমবার) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে- একাংশ) আয়োজিত ইফতার মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের কথা নয়, আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে যে, বাংলাদেশ একনায়কতন্ত্রের অন্যতম দেশগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে। আমরা চরম উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে,  যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো আমরা অর্জন করেছিলাম, গণতান্ত্রিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ শুরু করেছিলাম তা একে একে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।’

বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে সবসময় গণতন্ত্রের মাতা, গণতন্ত্রের জন্য যিনি সারাজীবন লড়াই করে গেছেন, এই ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। কিন্তু আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, উনাকে প্রায় পনের মাস ধরে একটি মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। সুচিকিৎসার সুযোগটাও তিনি পাচ্ছেন না। এই রমজান মাসেও তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে, যা উনার প্রাপ্য নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে কোন জবাবদিহিতা নেই। সরকার গায়ের জোরে যা ইচ্ছে তাই করছে। পুলিশ প্রশাসন নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরছেন। মোট কথা দেশে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে খুন, গুম, ধর্ষণের মত সামাজিক অপরাধ বেড়েই চলছে যা সরকার কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তিনি বলেন, সরকার উন্নয়নের গণতন্ত্রের কথা বলছে কিন্তু দেশের গোটা অর্থনৈতিক অবকাঠামো আজ ধ্বংসের পথে।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে হরণ করেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকেই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ সরকার একটার পর একটা পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকেরা চাকরিচ্যুত হয়েছে। তাছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মধ্যদিয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো আবশ্যক মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যের স্বার্থে, কোনো দলমতের কথা চিন্তা না করে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দেশকে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাই।’

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, শওকত মাহমুদ, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জামায়াত নেতা অধ্যাপক তাসনিম আলম, নুরুল ইসলাম বুলবুল, নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সাংবাদিক নেতা আবদুল হাই সিকদার, এমএ আজিজ, আবদুস শহিদ, বাকের হোসাইন, ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী প্রমুখ।

 

পাঠকের মন্তব্য