জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে খালেদাকে মুক্ত করার শপথ বিএনপির

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দলের নেতাকর্মীরা কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য নতুন করে শপথ নিয়েছেন।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা এ শপথ নেন। সেখানে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া ছাড়াও  জিয়াউর রহমান তার স্বল্প রাজনৈতিক জীবনে এই দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মৌলিক পরিবর্তন করেছিলেন। বাকশালী একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন; বাকস্বাধীনতা দিয়েছিলেন এবং অর্থনীতিকে মুক্ত করেছিলেন।"

ফখরুল বলেন, "আজকে দুর্ভাগ্যের সঙ্গে দেখছি গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে সমগ্র দেশে দুঃশাসন কায়েম করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে। তাই, আজকের এই দিনে আমাদের শপথ শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে আমরা গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করব।"

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘এই দিনে আমরা খালেদা জিয়া এবং গণতন্ত্র জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছি। আমরা আন্দোলনে আছি, থাকব। দেশে যতদিন আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসবে না, মানুষের মুক্তি আসবে না ততোদিন বিএনপি মানুষের সঙ্গে থাকবে এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

এ সময় দলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানানোর সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাতে চট্টগ্রামের পুরোনো সার্কিট হাউসে ঘুমন্ত অবস্থায় কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষির্কীর দিনটি স্মরণে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এছাড়া, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনও নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য