নিমতলী ট্র্যাজেডি : ভালো আছেন প্রধানমন্ত্রীর ‘তিন কন্যা’ 

নিমতলী ট্র্যাজেডি : ভালো আছেন প্রধানমন্ত্রীর ‘তিন কন্যা’ 

নিমতলী ট্র্যাজেডি : ভালো আছেন প্রধানমন্ত্রীর ‘তিন কন্যা’ 

সেই তিন কন্যা। নিমতলী ট্র্যাজেডির পর প্রধানমন্ত্রী সব হারানো যে তিন মেয়েকে নিজের মেয়ে বলে গ্রহণ করেছিলেন, ভালো আছেন তারা । ওই তিন মেয়ের ঘরে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন নাতি-নাতনী। এদের একজনের নাম আলী মর্তুজা আযান, দ্বিতীয় জনের নাম শ্রদ্ধা এবং তৃতীয় জনের নাম রমাদান। আলী মর্তুজা আযান বড় হয়েছে। শ্রদ্ধার বয়স ৬ বছর এবং রামাদানের বয়স প্রায় ৮ বছর। নিমতলী ট্রাজেডিতে রুনা রত্না ও শান্তা আপন জন হারিয়ে নিঃস্ব হলেও আজ আর তারা নিঃস্ব নয়। সেই তিন কন্যার সন্তান ও সংসার দেখে মনে হয় এটা জীবন বদলের গল্প। প্রধানমন্ত্রীর তিন নাতিই লেখাপড়া করছে। 

গত ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর ৪৩/১, নবাব কাটরা ৫তলা বাড়িতে সেই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১২৪ জন মারা যান। আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় কয়েকটি পরিবার। বাড়ির নীচে ক্যামিক্যাল গোডাউনে আগুন লেগে এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। ওই সন্ধ্যার পরই রুনার বিয়ের পানচিনি অনুষ্ঠানের সময় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডের পর পরিবার-পরিজন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন রুনা, রত্না ও শান্তা। ঘটনার পর এ অসহায় তিনজনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুকে টেনে নেন। নিজের সন্তান পরিচয় দিয়ে ঘোষণা দেন তারা তার নিজের সন্তান। এরপরই গণভবনে নিজে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তার তিন কন্যার বিয়ে দেন। 

গতকাল নিমতলীর হোসনী দালান রোডে এ তিন কন্যার সাথে  কথা হয় তাদের বাসায় বসে। ঈদ, সবে বরাত, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস, পুজাসহ বিশেষ দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তার এ তিন কন্যা ও নাতির খোঁজ-খবর নেন। তিন কন্যা বলেন, মা  শেখ হাসিনা ভীষন ব্যস্ত থাকেন। তার মাঝেও আমাদের খোঁজ খবর নেন। প্রয়োজনে আমাদের গণভবনে ডেকে নিয়ে সব বিষয়ে খবর নেন। 

এদিকে চাঁনখারপুলের হোসনী দালান রোডের ১৮/১০, শিয়া গলির বাড়ির দোতলায় থাকেন উম্মে ফারওয়া আক্তার রুমা।  ২০১১ সালের ৫ জুন তার ঘরে এসেছে আলী মর্তুজা আযান। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য তার নাতির খোঁজ নিয়েছেন। আযান জন্ম গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ফুল পাঠিয়েছিলেন। তার উকিল বাবা সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে মাঝে মধ্যে মোবাইল ফোন করে কথা বলেন। রুনার স্বামী সৈয়দ রাশেদ হোসাইন জামিলকে প্রধানমন্ত্রী নৌ বাহিনীতে চাকরি দিয়েছেন। স্বামী ও সন্তান নিয়ে এখন তাদের সংসার ভালই চলছে। 

সকিনা আক্তার রত্না জানান, এখনো সেই দিনের কথা বার বার মনে পড়ে। তখন কেউ দেখার ছিল না। গণভবনে বিয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার স্বামী সাইদুর রহমান সুমনকে বেসিক ব্যাংকে চাকরি দেয়া হয়। এখন তারা ১৬/৫, নবাববাগিচায় থাকছেন। ৯ মাস আগে তাদের ঘরে মেয়ে সন্তান শ্রদ্ধার আগমন ঘটে।  

আসমা আক্তার শান্তা জানান, গণভবনে বিয়ের পর তার মা (প্রধানমন্ত্রী) স্বামী আলমগীর হোসেনকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার স্বামীর ঐ চাকরি ভালো লাগেনি বলে ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করছেন। এখন তারা পুরান ঢাকার আগা সাদেক লেনের ৯৬/১ নম্বর বাড়িতে থাকেন। বিয়ের পর তাদের ঘরে আসা নতুন অতিথির নাম রাখা হয়েছে রমাদান। রমাদান বড় হয়ে উঠেছে। 
 
কিন্তু ৪৩/১, নবাব কাটরার সেই বাড়ি । নিমতলী ট্রাজেডি যুক্ত হয়ে আছে যে বাড়িটার সাথে। রশিদ মিয়ার সেই বিভীষিকাময় বাড়িটিতে আগুনে পোড়ার কোন দৃশ্য নেই। লোকজন স্বাচ্ছন্দ বাস করলেও এর দেয়ালের প্রতিটি ইটের ভাঁজে লুকিয়ে আছে এক বুক হাহাকার, স্বজন হারানো কান্না। এর বাসিন্দারা ও এলাকাবাসী সেদিনের কথা স্মরণ করে আজও কুকরে উঠে অন্তর্গত বেদনায়। 

পাঠকের মন্তব্য