কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছেও এখন ‘এক আতঙ্ক’

কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছেও এখন ‘এক আতঙ্ক’

কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছেও এখন ‘এক আতঙ্ক’

হাজতখানায় পুলিশের উপর চড়াও, থানা পুলিশকে ছুরিকাঘাত, পোশাক কারখানায় ছুরি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জিম্মি করা এবং সর্বশেষ অমিত মুহুরীকে কারাগারে হত্যার মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে ‘ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীর’ তকমা জুটেছে রিপন নাথের কপালে। ফলে গতকাল সোমবার তাকে অমিত মুহুরি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখাতে এবং রিমান্ড শুনানি উপলক্ষে আদালতে হাজির করার আগে কোর্ট হাজতে ‘বিশেষ নিরাপত্তায়’ রাখা হয়। কোর্ট হাজতের দায়িত্বরত এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, কোর্ট হাজতে রিপন নাথকে নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হয় পুলিশকে। পরে অমিত মুহুরী হত্যা মামলায় রিপন নাথকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালতের বিচারক। অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মুরাদ এই অনুমতি দেন। 

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, কারাগারে অমিত মুহুরীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ৫ কারণ দেখিয়ে আসামি রিপন নাথের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত বিস্তারিত শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এদিকে কোর্ট হাজতে গিয়ে দেখা যায়, চট্টগ্রাম কারাগার থেকে আদালতে আনার পর আদালতের হাজতখানায় বিশেষ নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে রিপন নাথকে। হাজতখানার ভেতরে স্বাভাবিকভাবে আসামিদের হাতকড়া খুলে দেয়া হলেও রিপন হাতকড়া পরা ছিল। সেখানে তাকে চোখে চোখে রাখার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এক পুলিশ সদস্যকে।

কারণ, এর আগে দুইবার হাজতখানায় পুলিশ ও আসামিদের মারধর করেছে রিপন নাথ।

এ বিষয়ে কোর্ট হাজতের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, কারাগার থেকে আদালতের হাজতখানায় যতবারই তাকে আনা হয়েছে ততবারই সে কোনো না কোনো অঘটন ঘটিয়েছে। তাকে নিয়েই এক ধরনের তটস্থ থাকতে হয়। এ কারণে আদালতের হাজতখানায় যতক্ষণ রাখতে হয় ততক্ষণ তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে রাখতে হয়।

তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছেও রিপন নাথ এখন ‘এক আতঙ্ক’। সেখানেও তাকে নিয়ে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রিপন গত চারমাসে আদালতের হাজতখানায় দুই বার মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে। একবার পুলিশ কনস্টেবল শাহজাহানকে মেরেছেন। অন্যবার হাজতখানার ভেতরে অন্য আসামিদের মারধর করেছে। তাকে দমাতে গেলে পুলিশের সঙ্গেও হাতাহাতি করেছে। এ অবস্থায় যখনই রিপনকে আদালতে হাজিরার জন্য আনা হয় তখন সার্বক্ষণিক দুই হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়।

তিনি আরো জানান, রিপনের সঙ্গে ভালো কথাও বলা যায় না। সে যা বুঝে তার কথাই শেষ। সে আইন মানতে চায় না। যখন তখন মানুষের উপর চড়াও হয়।
পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে অমিত মুহুরিকে খুন করার আগে নগরীর পাহাড়তলী থানার সেকেন্ড অফিসার রানা প্রতাপকেও ছুরিকাঘাত এবং থানা পুলিশকে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যে পোশাক কারাখানায় রিপন চাকরি করত সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও জিম্মির ঘটনা ঘটিয়েছে সে।

পাঠকের মন্তব্য