আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ভুল থেকে শিখছি : জুকারবার্গ

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ভুল থেকে শিখছি : জুকারবার্গ

আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ভুল থেকে শিখছি : জুকারবার্গ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গের নেতৃত্ব কেড়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, টিকে গেছেন জুকারবার্গ। বৃহস্পতিবার শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণে কোম্পানির বার্ষিক বৈঠকে জুকারবার্গের নেতৃত্বের ওপর ভোট হয়। তাতে তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। 

জুকারবার্গ একইসঙ্গে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মী (সিইও) এবং পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। কোম্পানির কিছু বিনিয়োগকারীর ধারণা ছিল, চেয়ারম্যান হিসেবে পদত্যাগ করলে আরো ভালোভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে পারবেন তিনি। এসব বিনিয়োগকারীরাই জুকারবার্গের চেয়ারম্যান হিসেবে পদত্যাগ করা উচিত কিনা সে বিষয়ে ভোটের আয়োজন করেছিলেন। 

সেসব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি হচ্ছে ট্রিলিয়াম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট।

তারা ফেসবুকের প্রায় ৭০ লাখ ডলার সমপরিমাণ শেয়ারের মালিক। ট্রিলিয়ামের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জোনাস ক্রোন বলেন, তিনি যদি একনিষ্ঠভাবে সিইও হিসেবে তার কাজের দিকে মনোযোগ দেন ও অন্য কাউকে যদি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে দেন তাহলে সব আরো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, জুকারবার্গ গুগলের ল্যারি পেজকে দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারেন বা মাইক্রোসফটের বিল গেটসকে। তারা দু’জনেই দু’টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, তবে বোর্ড চেয়ারম্যান নন।

প্রসঙ্গত, গত প্রায় দুই বছরে বেশ কয়েকটি তথ্য চুরি ও গোপনীয়তা কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত হওয়ার পরও তরতর করে বেড়েই চলেছে ফেসবুকের প্রবৃদ্ধি। প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন সদস্য। 

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এক শেয়ারহোল্ডার জুকারবার্গকে প্রশ্ন করেছিল, কেন তিনি স্বাধীন কোনো চেয়ারম্যান নিয়োগ দিচ্ছেন না? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি। তবে জুকারবার্গ বলেছেন, ফেসবুকের গোপনীয়তা ও কনটেন্ট বিষয়ক নীতিমালা নিয়ন্ত্রকদের হাতেই থাকা উচিত। এদিকে, ফেসবুকের সাবেক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান এলেক্স স্ট্যামোসও জুকারবার্গকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মে মাসে এক সম্মেলনে স্ট্যামোস বলেন, তার হাতে প্রচুর ক্ষমতা রয়েছে- এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 

জুকারবার্গ অবশ্য পূর্বে তার নেতৃত্ব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। এপ্রিলে তিনি বলেছিলেন, আপনি যখন ফেসবুকের মতো কিছু গড়বেন, যেটি এই পৃথিবীতে নজিরবিহীন একটি জিনিস, তখন আপনি দুই একটা জায়গায় ভুল করবেনই। আমি মনে করি, মানুষের এ কথাটা মাথায় রেখে আমাদের দায়ী করা উচিত যে, আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের ভুল থেকে শিখছি। 

পাঠকের মন্তব্য