আংশিক বেতন নিয়ে বাড়ি ফিরছেন পোশাক শ্রমিকরা

আংশিক বেতন নিয়ে বাড়ি ফিরছেন পোশাক শ্রমিকরা

আংশিক বেতন নিয়ে বাড়ি ফিরছেন পোশাক শ্রমিকরা

দেশের শিল্প অধ্যুষিত ছয় এলাকার প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে বলে দাবি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর। শিল্প পুলিশের দেয়া তথ্যেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মালিকদের পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী আংশিক বেতন নিয়ে বাড়ি ফিরছেন শ্রমিকরা।

কেরানীগঞ্জের কাশিমপুর এলাকায় ডেল্টা ফ্যাশনের শ্রমিক সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। কারখানাটির শ্রমিকরা এক মাসের পুরো বেতন চাইলেও মালিকপক্ষ ২০ দিনের বেশি বেতন দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলে গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

বোনাস পেলেও ডেল্টা ফ্যাশনের সমস্যাটি আংশিক বেতন নিয়ে। তবে ডেল্টার চেয়েও গুরুতর সমস্যা রয়েছে নারায়ণগঞ্জ এলাকার পাঁচটি কারখানার। এহসান নিট কম্পোজিট, ফাইনটেক্স লিমিটেড, ফতুল্লা ফ্যাশন লিমিটেড, এবি নিট এবং আল পাইন নিটিং নামের এ কারখানাগুলোর নয় শতাধিক শ্রমিক গতকাল বিকাল পর্যন্ত বেতন-বোনাস কিছুই পাননি।

গতকাল রাত ৮টায় যোগাযোগ করা হলে শিল্প পুলিশের মহাপরিচালক অ্যাডিশনাল আইজিপি আবদুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, আংশিক বেতন নিয়ে সমস্যা তেমন নেই। নারায়ণগঞ্জের কিছু নন-কমপ্লায়েন্ট কারখানায় এখনো বেতন-বোনাস কিছুই হয়নি। আজকের মধ্যে বেতন-বোনাস সব হয়ে যাবে। ছোটখাটো সমস্যা থাকবেই, সেগুলোর সমাধানও হচ্ছে।

শিল্প পুলিশের হিসাবে আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনায় পোশাক কারখানা আছে ৩ হাজার ৫৩৬টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৭৯টিতে বেতন পরিশোধ হয়েছে। আর বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৩ হাজার ৮০টি কারখানায়।

শিল্প পুলিশ-১ (আশুলিয়া) অঞ্চলের আওতায় পোশাক কারখানা আছে ৭৯১টি। গতকাল পর্যন্ত এর মধ্যে ৭৬৮টি কারখানায় বেতন পরিশোধ হয়েছে। বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৭৯১টিতে। এ হিসাবে শিল্প অঞ্চলটির ৯৭ শতাংশ কারখানায় বেতন ও শতভাগ কারখানায় বোনাস পরিশোধ হয়েছে।

গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত বেতন-বোনাস পরিশোধ চলছিল গাজীপুর অঞ্চলের অনেক কারখানায়। শিল্প পুলিশ-২ (গাজীপুর) অঞ্চলের অধীন পোশাক কারখানা আছে ১ হাজার ৩৪৫টি। গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত এর মধ্যে ৭২৮টি কারখানা বেতন পরিশোধ করেছে। আর বোনাস পরিশোধ করেছে ৯১৩টি কারখানা। এ হিসাবে এ অঞ্চলের ৫৪ দশমিক ১২ শতাংশ কারখানায় বেতন এবং ৬৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ কারখানায় বোনাস পরিশোধ হয়েছে।

শিল্প পুলিশ-৩ (চট্টগ্রাম) অঞ্চলের অধীন পোশাক কারখানা আছে ৬৯৭টি। এর মধ্যে বেতন পরিশোধ হয়েছে ৬৯৫টি বা ৯৯ দশমিক ১১ শতাংশ কারখানায়। বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৬৮৪টি বা ৯৮ দশমিক ১৩ শতাংশ কারখানায়।

শিল্প পুলিশ-৪ (নারায়ণগঞ্জ) অঞ্চলে পোশাক কারখানার সংখ্যা ৬৪২। এর মধ্যে বেতন পরিশোধ হয়েছে ৬২৭টিতে ও বোনাস ৬৩১টি কারখানায়।

শিল্প পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ) অঞ্চলের আওতায় পোশাক কারখানা আছে ৫৬টি। এ অঞ্চলের সব কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে। এছাড়া শিল্প পুলিশ-৬ (খুলনা) অঞ্চলের পাঁচটি পোশাক কারখানার সবগুলোতেই বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে।

শিল্প পুলিশের আওতায় থাকা ছয়টি অঞ্চলে পোশাক শিল্প ছাড়া অন্য খাতের (ওষুধ, পাদুকা ও পোশাক খাতের অনুষঙ্গ প্রস্তুতকারক) কারখানা আছে ৩ হাজার ৯০৪টি। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বেতন পরিশোধ হয়েছে ৩ হাজার ৫২২ বা ৯০ দশমিক ২১ শতাংশ কারখানায়। আর বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৩ হাজার ৬৭৮ বা ৯৪ দশমিক ২১ শতাংশ কারখানায়।

বিজিএমইএ বলছে, সংগঠনের সদস্য শতভাগ কারখানায় বেতন পরিশোধ হয়েছে। বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সদস্য সব কারখানার মধ্যে ৯১৬টিকে চিহ্নিত করেছে সংগঠনটি, যেগুলোয় বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে বিশেষ মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন ছিল। বিভিন্ন জোনে বিজিএমইএর ১৫টি দল ৯১৬টি কারখানা পরিদর্শন করেছে। সংগঠনের তালিকাটি শিল্প পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। ফলে চ্যালেঞ্জ থাকা কারখানার সংখ্যা ৬০০তে নেমে আসে। এ কারখানাগুলো নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হয়। ৬৫টি কারখানার সমস্যা সমাধান হয়েছে।

গতকাল বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু কারখানায় মে মাসের ২০ দিনের বেতনসংক্রান্ত বিষয় ছিল। শ্রমিকদের দাবি ছিল ৩০ দিনের। এ কারখানাগুলোর সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

পাঠকের মন্তব্য