ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা পথে পথে । প্রজন্মকন্ঠ

 ঘরমুখো মানুষের যাত্রা

ঘরমুখো মানুষের যাত্রা

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের আর মাত্র একদিন বাকি। এ সময়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা পথে বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। আজ (মঙ্গলবার) সকালে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে সড়কের অবস্থা পরিদর্শন শেষে সেতুমন্ত্রী আবারো দাবি করেন, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার যাত্রীদের কোনো দুর্ভোগ কিংবা ভোগান্তি নেই। রাস্তার জন্য কোথাও কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। একই সঙ্গে ঈদের পরে ঘরমুখো জনগণ কর্মস্থলে নির্বিঘ্নে স্বস্তিতে ফিরতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন সেতুমন্ত্রী।

তবে, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, এবার দেশের পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের তেমন একটা দুর্ভোগ পোহাতে না হলেও উত্তরাঞ্চলের সড়ক ও রেলপথের যাত্রীদের বিড়ম্বনা শেষদিন পর্যন্ত সহযাত্রী হয়ে রয়েছে। ঢাকা-উত্তরাঞ্চল মহাসড়কে তীব্র যানজটে নাকাল থেমে থেমে চলছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বহনকারী বাস, কোচ, প্রাইভেট কার এবং পিক-আপ ভ্যান। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টাও আটকে থাকছে গাড়ি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটারে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ রুটে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা থেকে যানবাহন চলাচল সাময়িককভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বিক্রমহাটি এলাকায় যানজটের প্রতিবাদে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা। এ সময় তারা সড়কের পাশে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামানের গাড়িতেও আগুন দেয়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার বিক্রমহাটিতে এ আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলাসহ মোট ২৬টি জেলার ৯০টি রুটের কয়েক হাজার যানবাহন প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকে। আর ঈদের সময় এ মহাসড়কটিতে মহাযানজটের সৃষ্টি হয়।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানি

পথের বিড়ম্বনা ছাড়াও সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আজকও প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত: দশজন। আর আহত হয়েছেন ৩৫ জন। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে সিরাজগঞ্জের বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৪ নির্মাণশ্রমিক নিহত এবং কমপক্ষে ২৩ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এতে আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। 

এরআগে সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপীনাথপুর শরীফপাড়া নামক স্থানে একটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু'জন নিহত হন। মোটরসাইকেল চালক আরিফ শেখসহ (৩২) চারজনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রেলপথে বিড়ম্বনা

ওদিকে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়েই গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। যারা রাত জেগে কষ্ট করে অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, তাদেরও দুর্ভোগের কমতি ছিল না। টিকিটের তুলনায় যাত্রী কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় প্রচুর যাত্রী  বৃষ্টির মাঝেও  ছাদে উঠে যাত্রা করেছেন।

মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিককের সঙ্গে আলাপকালে কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ আমরা সবাই চেষ্টা করছি যাত্রীদের ছাদে ওঠা থেকে বিরত রাখতে, কিন্তু এটা পারছি না।

আমিনুল হক বলেন, সোমবার (৩ জুন) থেকে গার্মেন্টসসহ সব অফিস আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টেশনে যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেছে।

ট্রেনের শিডিউলের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে পাঁচটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। এ বছর ঢাকাসহ পাঁচটি স্থান থেকে উত্তরাঞ্চলের টিকিট বিক্রি হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই যাত্রীদের চাপ একটু বেশি থাকায় এবং প্রতিটি স্টেশনে আগে যেখানে ২ থেকে ৩ মিনিট ট্রেন দাঁড়াতো সেখানে ৫ থেকে ৭ মিনিট সময় লাগছে। এ কারণেই বিপর্যয় হয়েছে বলে তিনি জানান।

নৌপথে দুর্যোগ

ওদিকে দক্ষিণের জেলাগুলোর হাজার হাজার যাত্রী বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে জড়ো হয় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। সকাল হতে হতে সদরঘাটের পথে মানুষের ঢল নামে।  টার্মিনাল ও পন্টুনে যাত্রীর চাপ সামাল দিতে  টার্মিনাল থেকে পন্টুনে যাওয়ার পথ সকালে কয়েক দফা গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ার কারণে কিছু সময় বন্ধও থাকে লঞ্চ চলাচল।

এদিকে লঞ্চের কেবিন, ডেক এমনকি খোলা ছাদেও ঠাসাঠাসি করা  যাত্রী নিয়ে  মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ ৬৫টি মতো লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে গেছে। আজ আরো দেড় শতাধিক লঞ্চ সদরঘাট থেকে প্রায় ৫ লাখ যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে রওয়ানা করার কথা। ঈদযাত্রার পঞ্চম দিনে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীর বাড়তি চাপ রয়েছে। সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। একই কারণে ফেরির লোড আনলোড ও লঞ্চ চলাচল বিলম্বিত  হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ২২টি লঞ্চ ও ২০টি ফেরি দিয়ে  যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের কাজ  চলছে। বিআইডব্লিউটিসি ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলের দিকে ঘাট ফাঁকা হয়ে গেলেও মধ্যরাত থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

ওদিকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে আজ সকালে মুন্সিগঞ্জের মওয়া রুটে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়িতে কিছু সময় নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।  এ রুটে ১৮টি ফেরি, ৮৭টি লঞ্চ ও প্রায় ৫০০টি স্পিডবোট দিয়ে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের পারাপার করা হচ্ছে।

 

পাঠকের মন্তব্য