বর্তমান ইন্টারনেট আসক্তি ভয়াবহ 

বর্তমান ইন্টারনেট আসক্তি ভয়াবহ 

বর্তমান ইন্টারনেট আসক্তি ভয়াবহ 

স্কূলে ছুটির ঘণ্টা ঘন্টা পরার সাথ সাথে একছুটে বাড়ি তে এসে কোন মতে বই রেখে পোশাক পাল্টে খেলার জন্য মাঠে আসতাম। ফুটবল, ক্রিকেট,  গ্যাজনদাড়ি, হাডুডু,ব্যাডমিন্টন, ভলিবল সিজন্যানলী কত খেলাই না খেলতাম।  ইন্টার স্কূল, ক্লাব পর্যায়ে, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন খেলা হত। কতই না সূখ স্মৃতি। আর এখনকার ছেলে- মেয়েরা খেলাধূলা,শরীরচর্চা এক প্রকার ভূলেই গেছে। মাঠের কোণে ৩/৪ জন বা ২/১ জন আথবা একা একা বসে মোবাইলে,  ইন্টানেট দ্যাখে। বাসে বসে আছে, এমনি কি ট্রেনে, পথে বা রাস্তা পার হচ্ছে তবুও চোখ সরানো দায়। সর্বত্রই এর ছড়াছড়ি।
           
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের বদৌলতে সমগ্র পৃথিবী যেন হাতের মুঠোয়। মানব সমাজে এর উপকারীতা এতই ব্যাপক যে, স্বল্প পরিসরে এটা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। প্রকৃত পক্ষে তথ্য প্রাপ্তি, শিক্ষা, গবেষনা  ও বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী  মাধ্যম এই ইন্টারনেট। ডিজিটাল  মানব সমাজে এটার উপর এতটাই নির্ভশীলতার বাধ্যবাধকতার ফলে আমার, আপনার, সবার হৃদয়ের মনি কোঠায় প্রতিনিয়তই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কবির সেই বিখ্যাত উক্তি "কত অজানারে  জানাইলে তুমি, কত জন দিলে ঠাঁই। দূরকে করিলে নিকট বন্ধু,পরকে  করিলে ভাই।"

মোবাইল ফোন আমাদের প্রতিদিনের চলার সঙ্গী।জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। প্রতিটি মঙ্গল প্রদীপের নিচে যেমন কিছু অন্ধকার থাকে,তেমনি ভাবে ইন্টারনেট প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহারও রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা তথা  ক্ষতিকরক প্রভাব। এই ক্ষতিকারক প্রভাবের অপর নাম এর প্রতি আসক্তি। অবাক হলেও সত্যি যে, ইন্টারনেটের অযথাচিত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে মানুষ এর প্রতি তীব্রভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। তার মেধার বিকাশ ও চিন্তা- চেতনা সব কিছু ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল, ঘন কালো মেঘের ঘটা আচ্ছন্ন থাকে। সঙ্গ নিরোধের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ। 

যে সব ক্ষতিকারক প্রভাব মানব জীবনে নেমে আসে একে একে তুলে ধরা হলো- শিক্ষাগত, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের চেয়ে ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে। ফলে শিক্ষাগত জীবনের ব্যর্থতা,পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের নানা টানাপোড়ন দেখা দেয় এবং কর্মক্ষেত্রে স্হবিরতা নেমে আসে। দাম্পত্যজীবনে বিবাহবিচ্ছেদ, কর্মক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতি যেন ইন্টারনেট আসক্তদের মধ্যে অতি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত ব্যাক্তির অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক দৈন্যদশার পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনের একাকিত্ব ও হতাশা দেখা দেয়।
 
আবার এক শ্রেণীর সেলফি আসক্তরা আপনজনের কবর খোঁড়ার, মৃত ব্যাক্তির পাশে হাসিমূখে সেলফি তোলা, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড, বোমা হামলা ছাড়াও দুর্যোগকালে সেলফি  আসক্তরা অমানবিক ভাবে আহতদের সাহায্য করা বাদ দিয়ে সেলফি তোলা,ফেসবুকে পোষ্ট করা এটা  "সেলফি  ম্যনিয়ার " রোগের লক্ষণ। আসক্তির অতিশয্যে আক্রান্ত ব্যাক্তির  আত্মহত্যা কিংবা খুন করার মতো ঘটনাও ঘটছে।

শারীরিক দিক থেকে আসক্ত ব্যক্তিদের একটি বড় আংশই নিদ্রাহীনতা, স্হূলতা, ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, কোমড় ব্যাথা, হৃদরোগ সহ এক বা একাধিক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। স্মার্ট ফোনের টাচ স্ক্রিনে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জীবনযাপন করে। সম্প্রতি  ব্রিটেনের গবেষনায় দেখা গেছে - মোবাইল ফোন এত বেশী ব্যাকটেরিয়া জড়িয়ে থাকে যে, তা সংখ্যায় টয়লেটের ফ্লাশ হ্যান্ডেলের চেয়েও ১৮ গুণ বেশী।

বর্তমানে বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বে মাদকাসক্তির মতোই ইন্টারনেট আসক্তি যেন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্হ্য সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত। সাধারণত  মানসিক ভাবে অপরিপক্ক স্কূল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরাই এই সমস্যায় বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। এক জরিপে দেখা যায়-- ২১% দঃকোরিয়া,১৩.৭% চিনা,১.৫% যুক্তরাষ্ট্র  ও ৮.২% ইউরোপের তরুন-তরুনীরা এ সমস্যায়  আক্রান্ত।আমাদের দেশে এই সমস্যার ব্যাপকতা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত ব্যাপক কোন জরিপ করা হয়নি। তথাপি ২০১৫ সালে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির( বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ৪০০ শিক্ষার্থীদের মধ্যে করা সংক্ষিপ্ত  জরিপে ২৫.৩% ইন্টারনেটের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। তাছাড়া ২০১৬ সালে পরিচালিত এক সমীক্ষায় লক্ষ্য করা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে ৬০ মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ১০ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩৫% সদ্য বয়ঃপ্রাপ্ত কিংবা উঠতি তরুন- তরুণী।কাজেই আমাদের দেশে এই সমস্যা  যে নিকট ভবিষ্যৎ মহামারী রূপধারন করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

উল্লেখ আর একটি কথা না বললেই নয়- প্রযুক্তি এই সময় হালের শিশুরা যে কোন প্রাপ্ত বয়স্কদের চেয়ে অনেক বেশী পারদর্শী। শিশুর বায়না সামলাতে তাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন স্মার্ট ফোন আথবা ল্যাপটাব। ফলে অনলাইনে গেম, বিভিন্ন ধরনের ভিডিও গেমের প্রতি অতিরিক্ত  ঝোক তাদের আঙ্গুলে প্রতিনিয়ত চাপ তৈরী করে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অতিরিক্ত পরিমানে স্মার্ট ফোনের টাচস্কিন ব্যবহার মারাত্মক প্রভাব ফেলবে আপনার শিশুর ওপর।এমনকি ভবিষ্যতে তার পেন বা পেনন্সিল ধরতে সমস্যা হতে পারে। এমনকি আঙ্গুল অক্ষম হয়ে যেতে পারে।সম্প্রতি ইংল্যান্ডে এন এইচ এস ট্রাস্টের কয়েকজন চিকিৎসকের করা একটি গবেষণায় এই ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। ফলে আঙ্গুলের গোড়ার দিকে পেশিগুলো কান্ত হয় সেজন্য তার হাতের লেখা নিয়ন্ত্রণ বা দ্রুত লিখতে পারে না, অতঃপর  পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর শেষ করতে পারছে না। আবার সারাক্ষণ ঘাড় গুঁজে ইন্টারনেটে মগ্ন থাকায় কম বয়সেই স্পনডিলাইটিসের শিকার হচ্ছে। সেজন্য এখনই সচেতন হওয়া জরুরী।

তাই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি মূলত আজ বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের এই অযথাচিত ও অপব্যবহারের ফলে নোংরামি, যৌনাচার, কম্পিউটার খেলা, ভার্চুয়াল সম্পর্ক, তথ্য প্রাপ্তি, অন লাইনে জুয়া ইত্যাদির প্রতি অতিমাত্রায় আসক্তি যেন এক বৈশ্বিক রূপ পেয়েছে। এছাড়াও নতুন প্রযুক্তির প্রতি তীব্র কৌতুহল,অনেকে শৈশব ও কৈশোর বয়সে শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হওয়া, নানা ভাবে সামাজিক ও পারিবারিক  সম্পর্করহিত টানাপোড়ন, মাদকাসক্তি, নৈতিক অবক্ষয়, একাকিত্ব, মানুষের

পাঠকের মন্তব্য