মিয়ানমার ঢালাওভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে

মিয়ানমার ঢালাওভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে

মিয়ানমার ঢালাওভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ঢালাওভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আজ (বুধবার) ঢাকায় অবস্থান করা সবগুলো দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশন প্রধানদের কাছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘বাংলাদেশ নাকি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাচ্ছে না’ সম্প্রতি জাপানে মিয়ানমারের মন্ত্রীর এমন বক্তব্য উল্লেখ করে আবদুল মোমেন বলেন, এসবই তাদের ধারাবাহিক মিথ্যাচারের অংশ। মন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের মিথ্যাচার ও অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত আজকে আমরা বিদেশি কূটনীতিকদের জানালাম। রোহিঙ্গা প্রত্যবাসন নিয়ে মিয়ানমার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বেশকিছু মিথ্যা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবার্সন কীভাবে জোরদার করা যায় এবং প্রক্রিয়াটা কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়- সে বিষয়ে মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার জন্য আমরা বলেছি। তারাও আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, এই রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া উচিত এবং এটা যত দ্রুত সম্ভব ফিরে যাবে ততই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল। বিশ্ববাসীর জন্যও মঙ্গল।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা ফিরে যাক, এটাই আমরা চেয়েছি। বরং মিয়ানমার বারবার কথা দিয়েও তাদের কথা রাখছে না। আমরা তাদের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল। দুই বছরের মধ্যে এটা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি। তার পরে বলা হলো, ২০১৮ সালের নভেম্বরে তারা শুরু করবে। সেটাও হয়নি। কিছুদিন আগে মিয়ানমারে চতুর্থ যৌথ সম্মেলনে গেলাম, তখন আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। বোধ হয় প্রক্রিয়াটা শুরু হলো। তা হয়নি। তারপর তারা আবার মিয়ানমারের আটশ গ্রামের মধ্যে দুইটা গ্রামে স্টাডি করেছেন। আটশর মধ্যে দুইটা! সেটা আসিয়ানকে দিয়ে, আসিয়ানের নামে এই স্টাডিটা করা হয়েছে! এবং সেখানে বলা হয়েছে, অবস্থা খুব ভালো। আটশ গ্রামের মধ্যে দুইটা গ্রাম, যেটা শোকেস গ্রাম। বলেছে, সেটা খুব ভালো করেছে! বাস্তবিক অর্থে মিয়ানমার তাদের কথা রাখেনি। মিয়ানমারের সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে তারা কোনো ভূমিকা রাখেননি। ছয় মাস আগে তারা যখন বলল, আমরা সব ঠিকঠাক করে দেব। ছয় মাস পরে এই মে মাসে আমরা যখন মিটিং করলাম, নতুন করে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখন পর্যন্ত একটি রোহিঙ্গা ফেরত যায়নি। আমাদের দেশে যে রোহিঙ্গা আছে, একটিও যায়নি। তারা যে বারবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, একটিও যায়নি। এমনকি যারা নো-ম্যানস ল্যান্ডে আছে, আমাদের দেশে না, ওখানে আছে, একটিও ফেরত যায়নি। সুতরাং মিয়ানমার সারা বিশ্বে যা বলছে, সেটা আসলে সত্য না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। তারা আমাদের বন্ধু। তাদের নিয়েই আলোচনার মধ্যে, নিয়মের মধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া দরকার। কিন্তু এ রকম ডাহা মিথ্যা আমরা কেমন করে কত হজম করতে পারি।’

‘দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হলে বিশ্ব নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতাও বাড়তে পারে- বলে এমন মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ব্রিফিংকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি তেরিঙ্ক বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আছি। এই ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন করে যাব।’

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা বাংলাদেশের পক্ষে আছি, সমর্থন করছি এবং একইসঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করছি। মিয়ানমারের পক্ষ থেকেও এক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ আসা উচিত।’

সম্প্রতি সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ১৪তম সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলাটি অবিলম্বে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) চালু করতে গাম্বিয়ার নেতৃত্বে মন্ত্রী পর্যায়ের অ্যাডহক কমিটিকে আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত মন্ত্রী পর্যায়ের অ্যাডহক কমিটির পক্ষে ওআইসির সমর্থন নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সব আইনি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য